ডুবে যাওয়া বাস থেকে ৯ শিশুসহ ২৩ মরদেহ উদ্ধার

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রায় ছয় ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র ক্রেন দিয়ে বাসটি নদী থেকে তোলা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বাসের ভেতর থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মোট ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন: রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামের মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা গ্রামের মৃত ডা. আবদুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭), রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা গ্রামের কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), গোয়ালন্দ উপজেলার চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২), গোয়ালন্দ উপজেলার চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), কালুখালী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে ফাইজ শাহানূর (১১), রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা গ্রামের কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে গাড়িচালক আরমান খান (৩১), কালুখালী উপজেলার মদেন্দ্রপুর ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা জেসমিন (৩০), রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবাহান মণ্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), রাজবাড়ী সদর উপজেলার বড় চর বেনিনগর গ্রামের মান্নান মণ্ডলের স্ত্রী জোসনা (৩৫), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কালুখালী উপজেলার মহেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী সদর উপজেলার আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান (৮), রাজবাড়ী সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন খানের ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নোয়াধা গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮), কুষ্টিয়া পৌরসভা মজমপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদরের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মথুয়ারাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকা জেলার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড়া গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে আরমান (৭ মাস)।
জানা গেছে, নিহতদের অধিকাংশই রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী ছিলেন। এছাড়া গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, ঢাকা ও ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দারাও এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী সময়ে ঢাকায় ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি পানিতে তলিয়ে গেলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্রেনের সাহায্যে ডুবে যাওয়া বাসটি শনাক্ত করে এবং কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় তা নদী থেকে তুলে আনে।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। এ সময় তার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানান, বাসডুবির ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কমিটি রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে। অপরটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি।
ভিওডি বাংলা/জা







