রাস্তা খোলা, হৃদয় খোলা
মানুষের হাসিতে উজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকার সকাল ভাঙে এক অদ্ভুত, কোমল আলোয়। দীর্ঘদিন ধরে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে রাস্তাঘাট বন্ধ থাকত, মানুষ বাধ্যতামূলকভাবে আটকে থাকত—আজ সেই রাস্তায় মানুষ হাঁটছে হাসিমুখে, স্বাধীনভাবে। রাস্তা খোলা, মানুষের হাসি।
“দশ বছর ধরে দেখেছি, প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সব সময় রাস্তাঘাট বন্ধ থাকে। আজ দেখছি, রাস্তা খোলা। মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। মনে হচ্ছে, ক্ষমতা মানুষের কাছে এসেছে—ভয়ে নয়। আমরা সবাই যেন একটু মুক্তি পেয়েছি,” চোখ ঝলমল করে বললেন ঢাকার রিকশাচালক সেলিম মোল্লা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ঢাকার ১৭ ও বগুড়া ৬ আসন থেকে নির্বাচিত। দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যে তারেক রহমানের পদক্ষেপগুলো জনমনে আনন্দের জোয়ার তুলেছে। তবে এর সঙ্গে রয়েছে কিছু নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগও।
রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান মোহন বলেন,
“বিশ্বের সকল রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য নিরাপত্তা সর্বপ্রথম। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি মানুষের মাঝে না গিয়ে কর্মসূচির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতে পারেন। আমাদের মনে রাখা উচিত, বাংলাদেশে সবাই বন্ধু নয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রয়েছে, এবং ইতিহাসে রাষ্ট্রপ্রধানদের ওপর হামলার উদাহরণও আছে। তাই নিরাপত্তার ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।”
তবে তিনি যোগ করেন, “শুরুটা ইতিবাচক। এখন ‘হানিমুন পিরিয়ড’ চলছে। ১৮০ দিন পার হলে প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে।”
রাজনৈতিক ও প্রতীকী এক দৃশ্য
সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী উদ্যানে যাওয়া—এটি শুধুই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক ও প্রতীকী দুই দিক থেকেই আলোচনার বিষয়।
চলচ্চিত্র পরিচালক সাকিল সৈকত বলেন,
“হলিউড বা বলিউডি অ্যাকশনধর্মী সিনেমার নায়কের মতো—অসম্ভবকে সম্ভব করা দৃশ্যের প্রতিফলন আমরা এই হেঁটে যাওয়ায় দেখতে পাই। টম ক্রুজ ‘মিশন ইমপসিবল’-এ যেভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করেন, তেমনই প্রধানমন্ত্রীর অকুতোভয় চাহনি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে সকল ভয় উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়া। এটি যেন সিনেমার সেই ক্লাইম্যাক্স সিন যা দর্শকের হৃদয় কাঁপিয়ে দেয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ওসমানী উদ্যান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান। সচিবালয় হলো রাষ্ট্রযন্ত্রের অভ্যন্তর, ক্ষমতার প্রতীক। এখান থেকে হেঁটে উন্মুক্ত উদ্যানে আসা মানে জনতার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা—একটি রাজনৈতিক ও মানবিক প্রতীক।”
প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জনমুখী উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত অফিসে উপস্থিত হন, ছুটির দিনেও কাজ করেন এবং প্রশাসনিক মনিটরিং করেন। এতে প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রচেষ্টা স্পষ্ট।
জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তা বলেন,
“সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে পৌঁছানো, দপ্তর মনিটরিং, ফাইল নিষ্পত্তি—এসব পদক্ষেপ জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য দরকারি। ব্যয় সংকোচন নীতি এবং অবিরত কাজ জনগণের কাছে প্রশংসিত। নির্বাচনী অঙ্গীকার এত দ্রুত বাস্তবায়ন এর আগে দেখা যায়নি।”
মন্ত্রী ও এমপিদের সচিবালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকার নির্দেশ
সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি ও ফাইল নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ—এসব পদক্ষেপও জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে।
১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে দিনাজপুরের সাহাপাড়ায় কোদাল হাতে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের প্রায় ২০ হাজার কিমি খাল, নদী–নালা ও জলাধার পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন,
“সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণ এবং খাল খনন কর্মসূচি—এটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ। সরকারকে জনসম্পৃক্ত করার উদ্যোগ এগিয়ে যাচ্ছে।”
মানবিক পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—দরিদ্রদের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ, সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ঈদ উপহার।
ড. তৌহিদুল হক আরও বলেন,
“প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম মাসের পদক্ষেপগুলো সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। নির্বাচনের ইশতিহারে যা বলা হয়েছিল, তা দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান। জনগণের সঙ্গে সরকারের বিশ্বাস ও যোগাযোগ আরও মজবুত হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন ফেসবুকে লিখেছেন,“মাত্র ২৮ দিনে নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে প্রধানমন্ত্রী কাজ করেছেন। এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রতিফলন।
ভিওডি বাংলা/সবুজ




