• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মধুপুরে কলা বাগান ধ্বংস, দেয়ালচাপায় আহত ২ শিশু

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি    ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৪ পি.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

চৈত্রের দ্বিতীয় দিনেই টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে কলাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ধসে পড়া ঘরের মাটির দেয়ালের চাপায় পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু ( ভাই বোন) আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

আহত ভাই-বোন শোলাকুড়ী মধ্যপাড়া গ্রামের দিন মজুর আকতার হোসেনের ছেলে পরান হোসেন (৬) ও বোন আরিফা (১৩)। তারা একজন প্রথম শ্রেণির ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া দমকা হাওয়া ও স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টিতে উপজেলার শোলাকুড়িতে আহত হওয়ার ঘটনাসহ বিভিন্ন এলাকার জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ।

উপজেলার অরণখোলা, বেরিবাইদ, শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা ও আউশনারা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, ঝড়ে অসংখ্য কলা গাছ ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে করে অনেক কৃষকের স্বপ্ন এক রাতেই ধুলিসাৎ হয়ে গেছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শোলাকুড়ি মধ্য পাড়ার আক্তারের ঘরের উপরে আম গাছ উল্টে ঘরের চালে পড়লে চাল সহ ঘরের দেয়াল ঘুমন্ত বাচ্চাদের উপর পড়ে যায়।  এতে করে ঘুমন্ত মেয়ে এবং ছেলে দুজনের পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গা জখম হয়।

আকতার হোসেন একজন দিন মজুর তার মেয়ে ক্লাস সিক্সে পড়ে, ছেলেটা ক্লাস ওয়ানে পড়ে। তার পক্ষে চিকিৎসা চালানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে চাষীরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অরণখোলা ইউনিয়নের আমলিতলা এলাকার নতুন কৃষি উদ্যোক্তা শাহীন আলম তার প্রায় দুই হাজারের বেশি কলা গাছ ঝড়ে প্রায় সব গাছই ভেঙে গেছে। 

একই এলাকার কৃষক সোলাইমান জানান, ঋণ নিয়ে  কলা চাষ করে  ঝড়ের কবলে পড়ে সব শেষ। এখন  সেই টাকা শোধ দেয়াই কঠিন হয়ে গেল ।

বেরিবাইদ ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকার কৃষক শরীফ মিয়া জানান, তার প্রায় ১ হাজার ছয়শত কলা গাছ ছিল, চারশত ভেঙে গেছে। এখন তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। একই এলাকার নাছির উদ্দীন ও রুবেল মিয়ারও বাগানের কলা গাছ ঝড়ে তচনছ হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ বছর চৈত্রের শুরুতেই এমন ঝড় অস্বাভাবিক। রাতের অন্ধকারে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বোঝা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, ঝড়ের কারণে কলা বাগানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করছি। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হবে।

ভিওডি বাংলা-মো. লিটন সরকার/জা 


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
৩ সন্তানের জননীকে ঈদ উপহার দিলেন রাজারহাট ইউএনও
৩ সন্তানের জননীকে ঈদ উপহার দিলেন রাজারহাট ইউএনও
গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন ডা. মইনুল হাসান
গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন ডা. মইনুল হাসান
নাগরপুর প্রেসক্লাবে ইফতার ও দোয়া মাহফিল
নাগরপুর প্রেসক্লাবে ইফতার ও দোয়া মাহফিল