আমাদের ওপর কারও আধিপত্য মেনে নেব না: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামী নেতা ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমাদের ঘাড়ের ওপর আমরা কারও আধিপত্য মেনে নেব না। আমাদের যুব সমাজ একদম এটা সহ্য করবে না। তারা বুক উঁচু করে বাঁচতে চায়, বিশ্বের বুকে পরিচয় দিতে চায়—আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি।”
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মধ্যে চীনের সহায়তায় বিতরণ করা ফুড প্যাক অনুষ্ঠানকে তিনি কেন্দ্র করে এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, “চীনের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদীর্ঘ ৫০ বছরের। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে চীন অন্যতম বৃহৎ পার্টনার এবং উন্নয়ন অংশীদার।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকে বাংলাদেশ থেকে সবকিছু নিয়ে যায়, কিছুই দেয় না। কিন্তু চীন কখনো এমন করে না। তারা অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিচ্ছে। আমরা আশা করব, অতীতের চাইতেও আগামী দিনগুলোতে চীন আরও উদ্যোগী হয়ে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।”
জামায়াত আমির আরও উল্লেখ করেন, “এটি সম্পূর্ণভাবে চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য উপহার। এখানে বাংলাদেশের কোনো টাকাও ব্যয় হয়নি। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের এই বন্ধুত্বের নিদর্শন হাইজ্যাক করা হয়েছিল। হলটার নাম পাল্টে তাদের বাপের নাম লিখে দেওয়া হয়েছিল। এটা চরম অকৃতজ্ঞতা। একটি দেশ ভালোবাসা থেকে উপহার দিয়েছে, কিন্তু তাদের নাম মিশিয়ে দেওয়া হলো।”
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, “আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ঈদুল ফিতর হলো ভালোবাসার উৎসব। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সবার মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দিতে আমরা আজকে কিছু উপহার নিয়ে এসেছি।”
তিনি জামায়াত আমিরের প্রশংসা করে বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ককে সমর্থন দেয়ার জন্য, বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে এবং ভবিষ্যতে আমরা জামায়াত ও ডা. শফিকুর রহমানের সহযোগিতা আশা করি। আমরা একসাথে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের মুসলিম ভাই-বোনরাও উন্নত জীবন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অংশীদার হবে।”
ভিওডি বাংলা/এমএস







