কাহালুতে অফিস বন্ধ রেখে পিকনিক:
পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

সরকারি অফিস চলাকালীন সময়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস বন্ধ রেখে পিকনিক আয়োজন করেছে বগুড়ার কাহালু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন জাহান বিউটির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের পাশাপাশি কর্মচারীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে চাঁদা তুলে এই পিকনিকের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থিত পরিবার পরিকল্পনা অফিসে গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অফিসের সবাই রাবেয়া পার্কে আলু ঘাঁটি উৎসব-এ গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের দিন সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে কাহালু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। ওইদিন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে পিকনিকের আয়োজন করা হয় কাহালু উপজেলার সীমান্তবর্তী বীরকেদার বাসস্ট্যান্ডের প্রায় ১০০ গজ দক্ষিণে অবস্থিত রাবেয়া পার্কে।
পরবর্তীতে উপজেলা অফিস থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে রাবেয়া পার্কে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দুটি সেড ভাড়া নিয়ে রান্নাবান্নাসহ পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি লটারির আয়োজনও করা হয়।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি অফিস চলাকালীন সময়ে অফিস বন্ধ রেখে পিকনিক বা উৎসব আয়োজনের কোনো বিধান নেই। সাধারণত সরকারি ছুটির দিনে বনভোজন বা পিকনিক আয়োজন করা যায়। তবে অফিস চলাকালীন দিনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিতেও এমন আয়োজনের নজির খুবই কম।
এদিকে কাহালু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন জাহান বিউটির বিরুদ্ধে আরও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
তিনি বগুড়ায় যোগদানের পর নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব উপজেলায় কর্মরত অবস্থায়ও কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, টিএ বিল, এলপিআর ও পেনশন সংক্রান্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে হলে তাকে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে কোনো বিল স্বাক্ষর করেন না বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মচারী। এছাড়া সম্প্রতি চাকরি স্থায়ী করার কথা বলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় দলীয় কর্মসূচিতে কর্মচারীদের উপস্থিত হতে বাধ্য করা এবং নিজেকে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রসেনজিৎ প্রণয় মিশ্র বলেন, অফিস বন্ধ রেখে পিকনিক বা উৎসব করার কোনো সুযোগ নেই। ছুটির দিনে এমন আয়োজন করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যদি অনৈতিক সুবিধা বা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ থাকে, তাহলে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাহালু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন জাহান বিউটি। তিনি বলেন, “বীরকেদারে একটি মিটিং ছিল। সেই মিটিং শেষে আলু ঘাঁটি উৎসবে গিয়েছি। কর্মচারীরা আনন্দের জন্য এই আয়োজন করেছে, আমি শুধু অংশগ্রহণ করেছি।
অফিস বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সারাদিন অফিস বন্ধ ছিল না, তবে কিছু সময় বন্ধ ছিল। সরকারি নিয়ম ভঙ্গের বিষয়ে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটেছে।
ভিওডি বাংলা-আ. স. ম. জাকারিয়া/জা







