ঈদ ছুটিতেও সচল চট্টগ্রাম বন্দর, জ্বালানি খালাসে বিশেষ টিম

ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ডিজেল, এলএনজি ও জেট ফুয়েলবাহী মোট ৭টি জাহাজ বন্দরে আসার কথা রয়েছে। দ্রুত জ্বালানি খালাস নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস গঠন করেছে ৫টি বিশেষ টিম।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর ও বহির্নোঙরে ৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজ থেকে মাদার ভেসেল ও লাইটারের মাধ্যমে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আগামী ১৭ মার্চ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে ‘প্রাচী’ এবং ২০ মার্চ ৭০ হাজার ৬৭১ টন এলএনজি বহনকারী ‘সোনানগোল বেঙ্গুইলা’ জাহাজ বন্দরে ভিড়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে। এছাড়া ২৪ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে প্রায় এক লাখ টন ডিজেল নিয়ে ৪টি জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার টন জেট ফুয়েলবাহী আরও একটি জাহাজ বন্দরে আসার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বহির্নোঙরে নিরাপদে পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
ঈদ ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের অধীন সব দপ্তর ও অপারেশনাল ইউনিটের জন্য বিশেষ ছুটির সূচি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এই সূচি অনুযায়ী পবিত্র শবে কদর, জুমাতুল বিদা, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসে বিভিন্ন সময় সাধারণ ও ক্লোজড হলিডে পালন করা হবে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সবচেয়ে দীর্ঘ ছুটি থাকবে ১৮ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ২৪ মার্চ সকাল ৮টা পর্যন্ত। তবে ঈদের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ‘ক্লোজড হলিডে’ পালন করা হবে। এছাড়া ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ২৭ মার্চ সকাল ৮টা পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে ছুটির মধ্যেও বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে না। শুল্ক বিভাগ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং অতিরিক্ত মাশুল প্রদানের শর্তে ছুটির দিনগুলোতেও জাহাজ ও লাইটার থেকে পণ্য খালাস করা যাবে।
এদিকে ঈদের ছুটিতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ২১টি বেসরকারি অফডকে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা)। সংগঠনটির মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি হলে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও অফডকের কার্যক্রম ব্যাহত হবে, ফলে রফতানি পণ্যের জাহাজীকরণ ও আমদানি পণ্যের ডেলিভারিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে বন্দর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ব্যাংক, শিপিংসহ অন্তত ২৫টি প্রতিষ্ঠান সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই ছুটির সময়েও জ্বালানি সরবরাহ ও বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, “ছুটির মধ্যেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ স্থানে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে আমদানি–রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।”
ভিওডি বাংলা/এমএস







