জেনে নিন শবেকদরের বিশেষ দোয়া

রমজানের শেষ দশক আসার সাথে সাথেই রাসুলুল্লাহ (সা.) সপরিবারে রাত জাগরণ করে ইবাদত-বন্দেগি করতেন।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমি লায়লাতুল-কদর জানতে পারলে তাতে কী প্রার্থনা করব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি বলবে- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউউন, তুহিব্বুল ‘আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ্! নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল দয়ালু। ক্ষমা করাকে ভালোবাসো। কাজেই আমাকে ক্ষমা করো। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫১৩; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮৫০)
বিশেষ দোয়ার বিশেষত্ব
‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউউন, তুহিব্বুল ‘আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।’ দোয়াটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার কারণ হলো- আরবি ভাষায় মাগফিরাহ এবং ‘আফওয়া দুটি শব্দের অর্থই ক্ষমা। কিন্তু ‘আফওয়’ শব্দটি মাগফিরাহ শব্দের চেয়ে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন ক্ষমা অর্থে ব্যবহার হয়। আরবি ভাষায় মুছে ফেলা অর্থে ‘আফওয়া’ শব্দটি ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন- আপনি চক দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখছেন। এমন সময় আপনার লেখার মধ্যে কিছু ভুল শব্দ লিখে ফেলেছেন, তখন কী করবেন? নিশ্চয়ই ডাস্টার দিয়ে ভুল লেখাগুলো মুছে ফেলবেন? এই মুছে ফেলা অর্থে ‘আফওয়া’ শব্দটি ব্যবহার হয়। অর্থাৎ ‘আফওয়া’ হলো- এমন ক্ষমা, আল্লাহ্ আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়ার পর তা পুরোপুরি মুছে ফেলবেন। এমনকি বিচার দিনেও আমাদের সেই গুনাহগুলো সম্পর্ক জিজ্ঞেস করবেন না। আল্লাহ্ তাঁর বান্দা এবং ফেরেশতাদের এই গুনাহগুলোর কথা ভুলিয়ে দেবেন। যেন বিচার দিনে এই গুনাহগুলোর জন্য আমাদের অপমানিত হতে না হয়। যখন মানুষ তার পাপকর্মের জন্য মন থেকে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায়, তখন আল্লাহ্ তা‘য়ালা অত্যন্ত খুশি হয়ে এই ধরনের ক্ষমা করেন। পক্ষান্তরে মাগফিরাহ অর্থও ক্ষমা। অর্থাৎ আল্লাহ্ তায়ালা ক্ষমা করে দিয়েছেন কিন্তু গুনাহগুলো তারপরও লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। বিচারের দিন এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে। বিচার দিনের আগে গুনাহগুলো মুছে ফেলা হবে না। এই দোয়ায় এই ‘আফওয়া’ শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তিনি বলেন, রমজানের শেষ দশ দিন আসার সাথে সাথেই রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে রাত জাগরণ শুরু করতেন এবং পরিবারবর্গকে জাগাতেন। ইবাদতের মধ্যে অত্যন্ত পরিশ্রম করতেন এবং দৃঢ় করে লুঙ্গি বেঁধে নিতেন। অর্থাৎ কোমর বেঁধে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করতেন।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯২০; মুসলিম, হাদিস : ২৮৪৪)
ভিওডি বাংলা/আরআর







