ডিএসসিসি প্রশাসক:
নখের কালি মুছার আগেই দাবি পূরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী

হাতের নখের কালি মুছার আগেই আপনাদের অনেক দাবি পূরণ করে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ধলপুর এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে ‘নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ি’ শীর্ষক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর একের পর এক জনহিতকর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছেন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। ঈদের পর তিনি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকারকে সময় দেওয়া প্রয়োজন। অতীতে যে কাজগুলো কেউ করতে পারেনি, প্রধানমন্ত্রী অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক দাবি পূরণ করে দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, সামনে বৃষ্টির মৌসুম আসছে। তাই সবাইকে নিজেদের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। তিনি যেখানে ব্যবসা করেন, সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশন ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে। এ কাজে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি অনুরোধ করেন, যেন কেউ যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলেন। বিশেষ করে পলিথিন ব্যবহারের পর তা খাল-বিল বা ড্রেনে না ফেলার আহ্বান জানান তিনি। কারণ পলিথিন সহজে নষ্ট হয় না এবং এর কারণে খাল-বিল ও নদী-নালা ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঈদের পর ঢাকা শহরের খালগুলো পরিষ্কার করতে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হবে। খালের মধ্যে থাকা অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা বৈধভাবে সেখানে আছেন, তাদের এমন কোনো কাজ না করার আহ্বান জানানো হবে যাতে খাল আবার বন্ধ হয়ে যায়।
আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে ঢাকা মহানগরীতে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি জনগণের সহযোগিতায় একটি বসবাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে চান। এ লক্ষ্যে ঈদের পর সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে ঢাকা শহরকে যানজটমুক্ত করা যায়, হকার, বাস-ট্রাক ও রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা আনা যায়-সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে এবং যেকোনো সময় বৃষ্টি হতে পারে। তাই সবাইকে নিজেদের আঙিনা ও ড্রেন পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনকে দু’টি বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো পরিচ্ছন্নতা। প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিনই অপসারণ করতে হবে। বাড়ি বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা আছে। এর বেশি নিলে সংশ্লিষ্ট কন্ট্রাক্টরের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো লাইট পোল। যেখানে লাইট পোল রয়েছে, সেখানে লাইট জ্বলতে হবে। এ বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকলে নগর ভবনে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
চলমান কর্মসূচি সারাদিনব্যাপী চলবে এবং চিফ কনজারভেন্সি অফিসারের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পরে একটি র্যালি করে যাত্রী বিভাগে গিয়ে আরেকটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কিছু গাড়ি হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের যেকোনো সমালোচনা ও সহযোগিতা তিনি স্বাগত জানান। কোনো সমস্যা হলে তাকে জানালে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের স্থানীয়ভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম বলেন, এ বছর যেন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া না বাড়ে সে জন্য এখন থেকেই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। মশক নিধন কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। যেসব খাল-বিল ও জায়গায় মশা জন্মায় সেখানে নিয়মিত মশার ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
তবে এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাড়ির ছাদে, ডাবের খোসায়, ফ্রিজের নিচে কিংবা ড্রেনে পানি জমে থাকলে সেখানে মশা জন্মাতে পারে। তাই এসব জায়গা পরিষ্কার রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে জনগণ ও সিটি করপোরেশনকে একসঙ্গে পার্টনার হিসেবে কাজ করতে হবে। মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজের স্বেচ্ছাসেবীদের যুক্ত করা হচ্ছে এবং ইমামদেরও গণসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







