খামারিদের রক্ষায় পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের ৬ দাবি

দেশের পোলট্রি শিল্পে প্রান্তিক খামারিরা বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের একচেটিয়াভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে মারাত্মক সঙ্কটে রয়েছে। গত সাত মাসে খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, কারণ বাচ্চা মুরগির দাম বেড়েছে কিন্তু ডিম ও মুরগির বাজার মূল্য উৎপাদন খরচের চেয়ে কম রয়েছে। এর ফলে অনেক খামারি বন্ধ হয়ে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) ছয়টি দাবির প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কর্পোরেট কর্তৃত্ব বন্ধ করা, প্রান্তিক খামারিদের জন্য “কৃষক কার্ড” জারি, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, পোলট্রি চারা ও ওষুধ বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান। বিপিএ বলছে, এসব পদক্ষেপ নেওয়া না হলে প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং ছয় মিলিয়ন মানুষ জীবিকার ঝুঁকিতে পড়বে।
বুধবার (১৪ মার্চ) ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটি, শফিকুল কবির অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিপিএর সভাপতি সুমন হাওলাদার সভাপতিত্বে এসব কথা বলেন।
উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার, সহ-সভাপতি বাপ্পি কুমার দে এবং ঢাকা মহানগরী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আল আমিনসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা আরও জানান, ঈদের আগে চারা মুরগির দাম কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে সাধারণত একটি বাচ্চা মুরগির দাম ৩০ টাকা হওয়া উচিত, বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান তা ৮০–৯০ টাকায় বিক্রি করছে। ফলস্বরূপ বাজারে মুরগির দাম বৃদ্ধি পেলেও প্রান্তিক খামারিদের কোন উপকার হয় না, বরং কোম্পানিগুলো চূড়ান্ত লাভ নিশ্চিত করছে বাজারে মুরগি পৌঁছানোর আগেই।
খামারিরা অভিযোগ করেছেন, কয়েকটি বড় কর্পোরেট গ্রুপ, তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির কিছু সদস্য ও অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এই নেটওয়ার্ক কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে, যা গ্রাহক ও ছোট খামারির উভয়ের ক্ষতি করছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ভিওডি বাংলা/জা







