মন্ত্রী-এমপিদের সতর্কতা ও দিকনির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের চলনে-বলনে মার্জিত ও সতর্ক থাকতে বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য ভিওডি বাংলাকে জানান, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও তিনি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে যার যে দায়িত্ব, তার বাইরে যেন কেউ মন্তব্য না করেন-এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ ছিল।
বুধবার (১১ মার্চ) সভা বেলা সোয়া ১১টায় শুরু হয়ে একটানা চলে বেলা ১টা পর্যন্ত। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মঞ্চে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভায় ২০৯ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী সভায় দলের জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ভবিষ্যতে করণীয় বিষয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের আঙুলের কালির দাগ মোছার আগেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি। এটাই হচ্ছে বিএনপি। এই বিএনপিকেই মানুষ দেখতে চায়।
তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে এবং ডেঙ্গুর মৌসুমকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সবাইকে সতর্ক করেন।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলেও সরকার বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ নেবে। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও জানিয়েছেন, বিএনপি যতটুকুতে সম্মত হয়েছে, সরকার ততটুকুই বাস্তবায়ন করবে।
সভায় মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের নিয়মিত ও সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়। অফিসে যাওয়া–আসার ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রীর। তিনি নিজেও ট্রাফিক আইন মেনে চলেন, যা সভায় উল্লেখ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানান এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি-বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে-এ প্রসঙ্গেও সতর্কবার্তা দেন।
সভায় জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত করা হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, সংসদ অধিবেশন শুরুর পর দুই দিন বিরতি থাকবে। এরপর ১৫ মার্চ সংসদ পুনরায় বসবে। ঈদুল ফিতরের পর ২৯ মার্চ আবার অধিবেশন শুরু হবে।
ভিওডি বাংলা/জা







