শ্রমজীবী নারী মৈত্রী কেন্দ্রীয় কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে “নতুন সরকার, পুরুষতন্ত্র ও নারী অধিকারের লড়াই” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেগুনবাগিচার রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জননেতা সাইফুল হক নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে নতুন সরকারের কমপক্ষে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নারীদের উপর অর্পণের আহবান জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই মন্ত্রণালয়গুলো তুলনামূলকভাবে বেশি দক্ষতার পরিচয় দেবে।
সভায় বক্তব্য রাখার সময় সাইফুল হক বলেন, “অধিকাংশ রাজনৈতিক দল পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব দ্বারা পরিচালিত। তারা নারীদের ভোটে নির্বাচনে জিততে চান, কিন্তু তাদের ন্যায্য অধিকার দিতে চান না। কেউ কেউ আবার নারী নেতৃত্বকে গ্রহণ করতে চাইছেন না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা অনেক ক্ষেত্রে সংকুচিত হয়েছে। সভায় তিনি নারীর অধিকার ও মর্যাদা বিরোধী সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ জোরদার করার আহবান জানান।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নারীনেত্রী বহ্নিশিখা জামালী, এবং সাধারণ সম্পাদনা করেন স্নিগ্ধা সুলতানা ইভার। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি রাশিদা বেগম, নারী নেত্রী তাসলিমা চৌধুরী রীতা, নার্গিস আকতার লিমা, সোনিয়া আক্তার, সাবিনা রহমত, শাকিলা আক্তার শান্তা, আলেয়া বেগম, নূর বানু, মরিয়ম বেগম, হাওয়া বেগম এবং শিউলী আক্তার। এছাড়া বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আলী সংহতি বক্তব্য রাখেন।
সভায় সভাপতিত্বকালে বহ্নিশিখা জামালী বলেন, “নারীরা পুরুষতান্ত্রিকতা ও শ্রেণীশোষণের দ্বৈত নিপীড়নের শিকার। অনেকে এখনও নারীদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষ মনে করেন। তারা নারীর গুণ ও রূপের প্রশংসা করেন, কিন্তু সমান অধিকার দিতে চান না। স্বাধীন নারীকে সমাজ ভয় পায়, পুরুষ মাতব্বরেরা তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ায়।”
তিনি আরও বলেন, “গত এক বছরে শিশু ও নারী ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্যাতিত নারী যদি গরীব হয়, তার উপযুক্ত বিচার পাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা থাকে না। এখনো সমান কাজে নারীর সমান মজুরি নেই, এবং সম্পত্তির ন্যাযা উত্তরাধিকার থেকেও নারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই নারী বিদ্বেষী সকল তৎপরতা আইন করে বন্ধ করার দাবি অত্যন্ত জরুরি।”
অন্য বক্তারা বলেন, নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। তারা জানান, নারীর সমান অধিকার ছাড়া সমাজ অগ্রসর হতে পারবে না। বর্তমান সরকারের ওপর জনগণ আশা রাখছেন দেশের নারী বান্ধব সরকারের দিক নির্দেশনার জন্য।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, নারীর ক্ষমতায়ন শুধুমাত্র নারী উন্নয়নের জন্য নয়, বরং পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। নারীর প্রতি বৈষম্য ও পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব সমাজের অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে।
এই আলোচনায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জোর দেন, নারীর অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই আধুনিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের মূল চাবিকাঠি।
ভিওডি বাংলা/জা







