কুমারখালীতে এমবিবিএস ছাড়া সব রোগের চিকিৎসক হাফেজ

এমবিবিএস পাস না করেও সকল রোগের চিকিৎসক কুমারখালী শিলাইদহ ইউনিয়নের বেলগাছী এলাকার হাফেজ ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ। তার ভুল চিকিৎসার কারণে ফুলের মতো এক বছরের শিশু খাদিজার শরীরে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক পরিবর্তন। তার চিকিৎসায় শিশু খাদিজার শরীরে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের রোগ।
ব্যবস্থাপত্রে তার বড় বড় ডিগ্রি, এমবিবিএস পাস না করেও তিনি সকল রোগের চিকিৎসক। নেই চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রের লাইসেন্স। এমনকি সার্জারী ডাক্তার না হয়েও করছেন অস্ত্রোপচারও।

অথচ তিনি পল্লী চিকিৎসক। তিনি কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বেলগাছী মোড় এলাকার বেলগাছী মেডিকেল ফার্মেসিতে নিয়মিত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন এই পল্লী চিকিৎসক হাফেজ ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ। কুমারখালীতে এমবিবিএস পাস না করেও সকল রোগের চিকিৎসক হাফেজ ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ।
এমবিবিএস চিকিৎসকের মতোই করছেন জটিল সব রোগের চিকিৎসা। ডিজিটাল ব্যানার ও চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজের নামে ভিজিটিং কার্ড ও প্যাড ছাপিয়ে আইন অমান্য করছেন প্রাথমিক চিকিৎসক হাফেজ ইব্রাহিম খলিলুল্লার।
বেলগাছি গ্ৰামের রবিউল ইসলাম নামে এক যুবক বলেন, ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ নামে শুধু ডাক্তার। তিনি সকল রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। প্রায়ই শোনা যায় তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। তিনি ডাক্তার না হয়েও কি ভাবে চিকিৎসা দিচ্ছে তা বলতে পারছিনা। দড়িগ্ৰামের খাইরুল ইসলামের এক বছর বয়সী মেয়ের ভুল চিকিৎসার কারণে মেয়েটির শরীর ফুলে ওঠে। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া এবং রাজশাহী ডাক্তার দেখাতে হচ্ছে। কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমারখালী উপজেলায় ডাক্তার রূপধারী পল্লী চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। শহরের তুলনায় গ্রাম-গঞ্জে এদের দৌরাত্ম্য তুলনামূলকভাবে বেশি। চটকদার সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে নিজেদের নামের আগে ‘ডাক্তার’ উপাধি আর ‘ডিপ্লোমা, প্যারামেডিক, এলএমএএফ, ডিএইসএস, শিশু বিশেষজ্ঞ, কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার’-এর মতো নামে ভারী শব্দ লাগিয়ে দেদারছে অপ-‘চিকিৎসা-বাণিজ্য’ চালাচ্ছেন এরা। চেম্বার খুলে সাইনবোর্ডে নামের সঙ্গে ‘ডাক্তার’ উপাধি ও ডিগ্রির বহর যোগ করে এভাবেই প্রতারণা করে যাচ্ছেন।
এই সব ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের কারণে হরহামেশাই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। ডাক্তার রূপধারী এই পল্লী চিকিৎসকদের ওপর প্রশাসনের নজর বা নিয়ন্ত্রণ কোনোটাই নেই। একারণে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সেবা নিতে আসা শহর ও গ্রামের অসংখ্য মানুষ।
ভু্ক্তভোগী খাইরুল ইসলাম জানান, ‘তার এক বছরের শিশুর শরীরে চুলকানি হয়। পরে তিনি স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক হাফেজ ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ এর কাছে যান। এ সময় তার মেয়েকে ভালো করার জন্য ইউনিকর্ড নামে ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু ভালো হওয়ার বদলে ইনফেকশন দেওয়ার পর থেকে মেয়ের শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। পরে তাকে কুষ্টিয়া ও রাজশাহী হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। চিকিৎসকরা তাকে বলেছেন ভুল চিকিৎসার কারণে তার মেয়ের এই অবস্থা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

ভুল চিকিৎসায় রোগীর অবস্থা সংকটাপন্নের দায় স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘যে রোগীর এমন অবস্থা হয়েছে , এই চিকিৎসাটা দেওয়া আমার উচিত হয়নি।
কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, ডাক্তার না হয়ে ডাক্তার পরিচয় দেওয়া যাবে না। এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুমারখালী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিওডি বাংলা/জা







