• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে দরপতন:

বাজার মূলধন ২০ হাজার কোটি টাকা কমল

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৪১ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাবে দেশের শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহজুড়ে ব্যাপক ধস নেমেছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। বিশেষ করে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে যেসব শেয়ারের সংখ্যা, তার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। ফলে ডিএসইর বাজার মূলধন প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি হ্রাস পেয়েছে।

গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৫৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে, ৩২৫টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দাম কমার তালিকায় স্থান পাওয়া প্রতিষ্ঠান সংখ্যা দাম বেড়ানোর চেয়ে ৫.৫১ গুণ বেশি।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এটি ছিল ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা বা ২.৮৪ শতাংশ।

শেয়ারবাজারে এই পতনের সঙ্গে সঙ্গে প্রধান সূচকগুলোও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে ৩৫৯.৪৩ পয়েন্ট বা ৬.৪২ শতাংশ কমেছে। আগের সপ্তাহে একই সূচক ১৩৪.৩৪ পয়েন্ট বা ২.৪৬ শতাংশ বেড়েছিল।

অপর প্রধান সূচক ডিএসই-৩০, যা বাছাই করা ভালো কোম্পানির শেয়ার দিয়ে গঠিত, সপ্তাহজুড়ে ১৫৭.৯৫ পয়েন্ট বা ৭.২৮ শতাংশ কমেছে। এর আগের সপ্তাহে সূচকটি ৭১.৫৮ পয়েন্ট বা ৩.৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানির শেয়ার দিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচকও সপ্তাহজুড়ে ৬৭.৪৭ পয়েন্ট বা ৬.০৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পূর্ববর্তী সপ্তাহে সূচকটি ২১.০৯ পয়েন্ট বা ১.৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

লেনদেনের গতিও একই সময়ে কমেছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে দৈনিক গড়ে লেনদেন ছিল ৭২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন কমেছে ২৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা ৩.৯১ শতাংশ।

টাকার অঙ্কে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন কোম্পানির শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ৪১ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ৫.৯৮ শতাংশের সমান।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি দেশের শেয়ারবাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে বিদেশি বাজারে সংঘটিত উত্তেজনা এবং তেলের বাজারের অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা নিয়ে বিক্রি করেছেন।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আমানতকারীদের মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আমানতকারীদের মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি
দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ারের দাম বাড়লেও ডিএসই সূচকে পতন
দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ারের দাম বাড়লেও ডিএসই সূচকে পতন
৫ ব্যাংকের একীভূতকরণ চলবে: গভর্নর
৫ ব্যাংকের একীভূতকরণ চলবে: গভর্নর