ঈদে দেশে ফেরা অনিশ্চিত অর্ধলক্ষ প্রবাসী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় ঈদ উপলক্ষে দেশে ফেরা প্রায় অর্ধলক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশি বিপাকে পড়েছেন। ঢাকাগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল, স্থগিত বা বিলম্বিত হওয়ায় তাদের স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আশা অনিশ্চিত হয়ে গেছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) পর্যন্ত বিমান চলাচলের এই সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীরা অসহায় অবস্থায় আছেন। একই সঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক ও কর্মীরা।
নিউইয়র্কের ‘আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সিনিয়র সদস্য এবং ডিজিটাল এস্টোরিয়া ট্রাভেল এজেন্সির প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম জানান, “ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত ছয় দিনে আটলান্টিক মহাসাগর ও পার্শ্ববর্তী আকাশপথ দিয়ে চলাচলকারী ২০ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল, স্থগিত বা সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় বিভিন্ন আকাশপথে বিধিনিষেধ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারও নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আসন্ন ঈদ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসার জন্য যেসব বাংলাদেশি টিকিট কেটেছিলেন, তাদের অনেকেই এখন বিপাকে পড়েছেন। অন্তত ৫০ হাজার প্রবাসীর ঈদে দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”
প্রবাসীদের অনেকেই বিকল্প পথে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ অতিরিক্ত খরচ করে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স, ক্যাথে প্যাসিফিক বা টার্কিশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে যাত্রা করার চেষ্টা করছেন। তবে এসব ফ্লাইটের টিকিটের সংকট দিন দিন বাড়ছে এবং ভাড়া বাড়ছে।
‘এয়ারলাইনস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আটাব)’-এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সেলিম হারুন (কর্ণফুলি ট্রাভেল) এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ মোরশেদ (স্কাইল্যান্ড ট্রাভেল) জানান, “মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ট্রাভেল ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে দেশে আসতে চাওয়া প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের অর্থনীতিও সম্ভাব্য বড় অঙ্কের আয়ের সুযোগ হারাচ্ছে।”
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে অবস্থিত দক্ষিণ এশীয় বাণিজ্যিক কেন্দ্র ‘স্মৃতি ট্রাভেলস’ ও ‘স্মৃতি মানি রেমিট্যান্স’-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও ড. মাহাবুবুর রহমান টুকু বলেন, “ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ায় অনেক প্রবাসী দেশে যেতে না পেরে পরিবারের জন্য অতিরিক্ত রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ডেবিট কার্ডে অর্থ পাঠালে যুক্তরাষ্ট্রের ১ শতাংশ ফেডারেল ট্যারিফ ছাড় পাওয়া যায়। এছাড়াও বাংলাদেশে পৌঁছার পর সরকারের ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া যাচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথে বিধিনিষেধ আরও দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশে থাকা প্রায় ৫০ হাজার প্রবাসীর জন্য ঈদে দেশে ফেরা আরও অনিশ্চিত হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর ব্যবসায়ও বড় ধাক্কা দিয়েছে।
প্রবাসীরা জানিয়েছেন, তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে বিকল্প রুট খুঁজছেন, কিন্তু টিকিট সংকট এবং বৃদ্ধি পাওয়া ভাড়ার কারণে এ সমস্যা সহজে সমাধান হচ্ছে না। অনেকের পরিবার দেশে অপেক্ষা করলেও প্রবাসীরা স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারছেন না।
ভিওডি বাংলা/জা







