যেভাবে রাজধানীর অভিভাবক হলেন আবদুস সালাম

ঢাকা রাজধানী হিসেবে বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। তবে এই মেগাসিটির বিস্তৃতি যতই প্রশংসনীয়, এর সঙ্গে জড়িত সমস্যাগুলোও ততটাই জটিল। নিয়মিত যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুরবস্থা, মশার সমস্যা এবং নাগরিক সেবায় দীর্ঘ প্রতীক্ষা-এসবই ছিল শহরের মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক হিসেবে মো. আবদুস সালাম দায়িত্ব নেওয়ার পর দক্ষিণ ঢাকার মানুষ নতুন আশা দেখছেন। সততা, অদম্য কর্মনিষ্ঠা এবং তীক্ষ্ণ দূরদর্শিতার সমন্বয়ে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে একজন ‘পরিবর্তনের উদাহরণ’ হিসেবে প্রমাণ করেছেন।
ড্রয়িংরুম ছেড়ে রাজপথে
প্রশাসক মো. আবদুস সালাম চিরাচরিত ‘ফাইলবন্দি’ আমলাতান্ত্রিক প্রথা ভেঙে দিয়েছেন। তিনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দপ্তরে বসে নির্দেশ দেওয়ার চেয়ে তপ্ত রোদে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে মাঠ পর্যায়ে তদারকি করাকে বেশি গুরুত্ব দেন। নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম-সবখানেই তার সরব উপস্থিতি। এই মাঠমুখী নেতৃত্বের কারণে ডিএসসিসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার হয়েছে। তার নীতি স্পষ্ট: “সমস্যা যেখানে, সমাধানও সেখানেই খুঁজতে হবে।”
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দমনে আপসহীন অবস্থান
ঢাকা দক্ষিণ সিটিকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন।
বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ১০০ টাকার বেশি কেউ দাবি করলে তা সরাসরি অভিযোগ করতে হবে। প্রমাণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের চুক্তি বাতিলের সাহসী সিদ্ধান্ত নগরবাসীর কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
এছাড়াও ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’: এই স্লোগানকে কাগুজে রূপ থেকে বাস্তবে রূপান্তর করতে তিনি নিরলস কাজ করছেন। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি ঢাকাকে সবুজে ঘেরা এক আধুনিক নগরী করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তিনি হাতে নিয়েছেন।
মশা নিধনে সাঁড়াশি অভিযান: ক্রাশ প্রোগ্রাম
মশার প্রাদুর্ভাব যখন নগরবাসীর রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছিল, ঠিক তখনই প্রশাসক মো. আবদুস সালামের নির্দেশে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’। লার্ভিসাইডিং এবং ফগিং কার্যক্রমকে শুধু মূল সড়কে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি অলিগলিতে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। তার এই সরাসরি তদারকি মশা নিয়ন্ত্রণে এক কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
মানবিক ও সংবেদনশীল প্রশাসন
একজন দক্ষ প্রশাসকের পাশাপাশি মো. আবদুস সালাম একজন অত্যন্ত মানবিক মানুষ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো- দাফন ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ফি হ্রাস। কবরস্থানে দাফন ও শ্মশানে দাহের নিবন্ধন ফি ১০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করার সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক। শোকাতুর পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর এই উদ্যোগটি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তার জন্য এক বিশেষ জায়গা তৈরি করে দিয়েছে।
সড়ক শৃঙ্খলা ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ
রাজধানীর যানজট নিরসনে তিনি পরিবহন ও ট্রাফিক সার্কেলের কর্মকর্তাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের হাঁটার জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তার দৃঢ় অবস্থান এক নতুন বার্তা দিচ্ছে- “জনস্বার্থই সবার আগে।” তিনি মনে করেন, একটি সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা ছাড়া আধুনিক রাজধানী গড়া অসম্ভব।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
ডিএসসিসির প্রতিটি স্তরে তিনি চেইন অফ কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা বাড়াতে যেমন তিনি কঠোর, তেমনি ভালো কাজের জন্য উৎসাহ দিতেও কার্পণ্য করেন না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার অনমনীয় অবস্থান সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি জনগণের কাছে উজ্জ্বল করছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি শহর তখনই বাসযোগ্য হয় যখন তার অভিভাবক সৎ এবং সাহসী হন। প্রশাসক মো. আবদুস সালামের ব্যক্তিগত বিনয়, অমায়িক আচরণ এবং কাজের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা তাকে একজন রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি স্বপ্ন দেখেন এমন এক ঢাকার, যেখানে প্রতিটি নাগরিক স্বস্তিতে শ্বাস নিতে পারবে এবং সম্মানজনক নাগরিক সেবা পাবে।
মো. আবদুস সালাম আজ কেবল একজন প্রশাসক নন, তিনি রাজধানীর কোটি মানুষের আস্থার নাম। তার প্রতিটি পদক্ষেপ বলছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সঠিক পথে এগোচ্ছে। কাজের প্রতি এমন নিবেদন এবং মানুষের প্রতি এমন ভালোবাসা অব্যাহত থাকলে, খুব শিগগিরই আমরা একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও তিলোত্তমা ঢাকা উপহার পাব-এমনটাই প্রত্যাশা বিশেজ্ঞ ও সাধারণ নগরবাসীর।
ভিওডি বাংলা/জা







