তেল নিতে ফিলিং স্টেশনে লম্বা লাইন, হচ্ছে তর্ক-বিতর্ক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার ছুটির দিনেও অস্বাভাবিক ভিড় দেখা গেছে। কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে গিয়ে চালকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরীবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশন এলাকায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের বিশাল সারি দেখা যায়। স্টেশনটির সামনে থেকে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালের পাশ ঘেঁষে শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়।
এই লম্বা লাইনের কারণে ছুটির দিনেও ওই সড়কে যানজট তৈরি হয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে লাইনে আগে কে তেল নেবে—এ নিয়ে কয়েকজন মোটরসাইকেল চালকের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
প্রায় ৫০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে সক্ষম হন উবারচালক নাজমুল হাসান। তিনি জানান, শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। এত সময় অপেক্ষা করায় এ সময়ে দুই থেকে তিনটি ভাড়া হারাতে হয়েছে বলে জানান তিনি। নাজমুল বলেন, প্রতিদিন তার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল লাগে এবং এই তেলের ওপরই তার জীবিকা নির্ভরশীল।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তেলের সংকট দেখা দিলে কী হবে—এ নিয়েও উদ্বিগ্ন তিনি। কারণ এই উবার চালিয়েই তার পরিবারের খরচ চলে।
তবে মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার-এর সহকারী ব্যবস্থাপক আহমেদ রুশদ বলেন, স্টেশনে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক থাকলেও স্টেশনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের পাশে করিম এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশন-এও মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। স্টেশনের কোষাধ্যক্ষ মো. সোহাগ বলেন, সাধারণত ছুটির দিনেও এত বড় লাইন দেখা যায় না। ডিপো থেকে আগের তুলনায় কম তেল আসছে বলে জানান তিনি। আগে যারা ২০০ বা ৪০০ টাকার তেল নিতেন, তারাও এখন পুরো ট্যাংক ভর্তি করছেন।
এই স্টেশনে তেল নিতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন জানান, তিনি তিনটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এখানে তেল পেয়েছেন। অন্য স্টেশনগুলোতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছিল না বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশনে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো গাড়িকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে কেবল অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের গাড়ি, সরকারি যানবাহন এবং তেল প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া কিছু গাড়িকে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছিল।
স্টেশনটির কোষাধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বলেন, সাধারণত শুক্রবার ও শনিবার তাদের ডিপো থেকে নতুন তেল আসে না। তাই রিজার্ভে থাকা সীমিত তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আগে তিন গাড়ি তেল আনতাম, এখন দেয় এক গাড়ি। ফলে এখন আমরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দিচ্ছি না।’
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়েছে এবং ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত শেষ হয়ে যায়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবুও সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগেই তেল কিনে রাখছেন।
ভিওডি বাংলা/এমএস







