• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বিশ্বজুড়ে ব্রোথ-স্টকের জনপ্রিয়তা, কমফোর্ট ফুড হিসেবে কেন সেরা?

লাইফস্টাইল    ৬ মার্চ ২০২৬, ০১:১৪ পি.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

যখন আমরা অসুস্থ থাকি বা মন খারাপের দিনে শান্তি খুঁজি, তখন একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী খাবারের দিকে আমাদের মন যায়-এক বাটি গরম ঝোল বা ব্রোথ। সংস্কৃতি ভেদে এর স্বাদ ও উপকরণ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু বিশ্বের প্রায় সব দেশে এই স্যুপকে কমফোর্ট ফুড হিসেবে দেখা হয়। আধুনিক সময়ে ব্রোথ ও স্টক স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অংশ হিসেবে ‘ওয়েলনেস ট্রেন্ড’ হয়ে উঠেছে। তবে এর শিকড় হাজার বছরের পারিবারিক স্মৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত।

দেশভেদে ঝোলের বৈচিত্র্য

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সর্দি-জ্বরের সময় ‘চিকেন নুডলস স্যুপ’ প্রচলিত। অন্যদিকে, ইতালিতে দাদিমা-নানির হাতে তৈরি ‘পাসতিনা ইন ব্রোদো’ (হাড়ের স্টকে ছোট পাস্তা) বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

এশিয়ায়, চীন, ভিয়েতনাম ও কোরিয়ায় শিশুদের জন্য রান্না করা হয় ‘কঞ্জি’ বা চালের জাউ। কোরিয়ায় গ্রীষ্মের তীব্র গরমে শরীর চাঙ্গা করতে মায়েরা বানান ‘সামগিয়ে-তাং’, যা ভেষজ ও আস্ত মুরগির ঝোলের সংমিশ্রণ। জাপানে নতুন বছরের উদযাপনে ‘ও-জোনি’ নামক বিশেষ স্যুপ অপরিহার্য।

পূর্ব ইউরোপে, ইউক্রেনসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে লাল বিটের স্যুপ ‘বর্শট’ অত্যন্ত জনপ্রিয়। এভাবে, প্রতিটি সংস্কৃতিতে ঝোলের রূপ ও উপাদান ভিন্ন হলেও এর উদ্দেশ্য একই-শরীরকে উষ্ণ রাখা এবং মনকে শান্ত করা।

ব্রোথ ও স্টকের পার্থক্য

অনেকেই স্টক এবং ব্রোথকে একই মনে করেন, কিন্তু রন্ধনশৈলীতে এদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য আছে।

ব্রোথ: এটি সাধারণত মাংস, সবজি ও মসলা দিয়ে কয়েক ঘণ্টা হালকা আঁচে ফুটিয়ে তৈরি করা হয়। স্বাদে হালকা এবং সরাসরি খাওয়ার জন্য উপযোগী।

স্টক: প্রধানত পশুর হাড় থেকে তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় হাড় ফোটানোর ফলে প্রচুর কোলাজেন ও পুষ্টি উপাদান ঝোলে মিশে যায়। স্টক ঘন ও আঠালো হয় এবং খাবারে স্বাদ ও পুষ্টি বাড়ায়।

ঐতিহাসিকভাবে, ব্রোথ তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিল মিতব্যয়িতা এবং পুষ্টির সর্বোচ্চ ব্যবহার। যে হাড় বা মাংসের শক্ত অংশ খাওয়া যেত না, তা ফুটিয়ে নির্যাস বের করে নেওয়া হত। এক সময় যা দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার উপায় ছিল, আজ তা সুপারমার্কেটে ‘হেলথ ড্রিঙ্ক’ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। নিউইয়র্কের মতো শহরে কফির বিকল্প হিসেবে ১০ ডলারে ছোট এক কাপ হাড়ের স্টকও পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রাচীন চীনা চিকিৎসা শাস্ত্রেও ঝোল বা স্যুপ খাওয়ার গুরুত্ব প্রতিফলিত। গবেষকরা বলেন, হাড় ও মাংসের ঝোলে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড ও কোলাজেন শরীরের প্রদাহ কমাতে, হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং ঠান্ডা লাগার উপসর্গ উপশমে সহায়ক। শুধুমাত্র পেট নয়, বরং মস্তিষ্ককে শান্ত করতেও ব্রোথ কার্যকর।

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাড়ের ঝোল খাওয়া হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। ফলে ব্রোথ কেবল ঐতিহ্য নয়, আধুনিক জীবনেও এটি স্বাস্থ্য ও সুস্থতার প্রতীক।

সমাপনী

বিশ্বের যে প্রান্তে যান না কেন, এক বাটি গরম স্যুপ কেবল শরীর নয়, আত্মাকেও উষ্ণ করে। বাড়ির রান্নাঘরে কেউ এখনও পরম মমতায় ফুটানো স্যুপের হাঁড়ির দিকে নজর রাখে। এটি হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে আদিম এবং অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতীক। ব্রোথ ও স্টক কেবল খাদ্য নয়-এটি এক ধরনের অনুভূতি, যা আমাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনে।

সুতরাং, আজও যখন মন খারাপ বা শরীর দুর্বল, এক বাটি গরম ঝোল বা ব্রোথের মধ্যে লুকানো সেই শতাব্দী-প্রাচীন কমফোর্ট এবং সুস্থতার রহস্য আমাদের কাছে পৌঁছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে বাড়ছে বুকজ্বালা
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে বাড়ছে বুকজ্বালা
সঠিক সময় খাবারের নিয়ম না মানলে বাড়ে ডায়াবেটিস
সঠিক সময় খাবারের নিয়ম না মানলে বাড়ে ডায়াবেটিস
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ