কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি:
রায় পেছানোর কারণ জানাল চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চব্বিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রামপুরায় ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার সময়সূচি কেন পেছানো হলো।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মামলার যেকোনো পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বাদ পড়লে তা পরবর্তীতে “অ্যাডিশনাল এভিডেন্স” হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আইনই প্রসিকিউশনের জন্য এই সুযোগ দিয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আমি ট্রাইব্যুনালে যোগদানের পর প্রতিটি মামলা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যেসব মামলার তদন্ত সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো স্ব স্ব প্রসিকিউটরদের মাধ্যমে চালানোর নির্দেশ দিচ্ছি। যেগুলোর তদন্ত পুনরায় হওয়া উচিত, সেগুলো সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের নিকট নির্দেশনা দিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, এই মামলাটি তার যোগদানের আগে রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের একটি ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে, যেখানে তিনি কীভাবে গুলি চালিয়েছেন এবং কার নির্দেশে তা করেছেন তা সরাসরি স্বীকার করছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণটি এখনও মামলায় উপস্থাপন করা হয়নি।
“সর্বোচ্চ ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমরা ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেছি, যেন ভিডিওটি সংযুক্ত করে উপস্থাপন করা যায়। এজন্য চার সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছেন,” বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
সাক্ষ্যগ্রহণের প্রয়োজন হবে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রয়োজন হবে না। ভিডিও প্রমাণ সরাসরি এভিডেন্সে উপস্থাপন করা যাবে এবং ডিফেন্সকে নোটিশ দিয়েই বিষয়টি জানানো হবে।
গাফিলতির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, “এটি গাফিলতি নয়। কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি ঘটতে পারে। সম্ভবত তখন এভিডেন্সটি উপস্থিত ছিল না। বিষয়টি আমার নজরে আসায় তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন মনে হয়েছে।”
মামলায় মোট পাঁচজন আসামি রয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন চঞ্চল চন্দ্র সরকার। আজ সকালে তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পলাতক আসামিরা হলেন:
ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলন চলাকালীন আমির হোসেন নামে এক তরুণ প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন। পুলিশ সদস্যরাও তার পিছু নেন। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা অবস্থায় ছয় রাউন্ড গুলি চালানো হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। একই দিনে বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম মারা যান।
এই ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর হাবিবসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই বছরের ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, রায় ঘোষণার আগে ভিডিও প্রমাণ সংযুক্ত করা হলে ন্যায়বিচার আরও শক্তিশালী হবে এবং মামলার সব তথ্য নিশ্চিতভাবে বিচারিক আদালতের কাছে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
ভিওডি বাংলা/জা







