বিস্ফোরণের আশঙ্কা
তেঁতুলিয়ায় এলপিজি অটো ফিলিং স্টেশনে অবৈধ রিফিল

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় একটি এলপিজি অটো ফিলিং স্টেশনে অবৈধভাবে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রিফিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের কালান্দি বাজার সংলগ্ন মেসার্স এইচ আর এলপিজি অটো ফিলিং স্টেশন-এ নিয়মিতভাবে ১২ ও ৩৫ কেজি ওজনের রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে গাড়ির এলপিজি রিফিল করা হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
নির্ধারিত বাজারমূল্যের চেয়ে প্রায় ৩০০-৪০০ টাকা কমে এসব সিলিন্ডার রিফিল করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ১২ কেজি সিলিন্ডারে প্রায় ৭৪২ টাকার এলপিজি দিয়ে ১৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিটি সিলিন্ডারে প্রায় ৫৫৮ টাকা লাভ করছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন শত শত সিলিন্ডার রিফিল করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
বিস্ফোরক অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রান্নার গ্যাস ও গাড়ির গ্যাসের সংমিশ্রণে পার্থক্য রয়েছে। রান্নার গ্যাসে সাধারণত ৭০ শতাংশ প্রোপেন ও ৩০ শতাংশ বিউটেন থাকে, আর গাড়ির গ্যাসে থাকে ৬০ শতাংশ প্রোপেন ও ৪০ শতাংশ বিউটেন। এই পার্থক্যের কারণে গাড়ির এলপিজি রান্নার সিলিন্ডারে ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। সংমিশ্রণ সঠিক না হলে গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে জমে থেকে নাড়াচাড়ায় বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, পিকআপ ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে খালি সিলিন্ডার এনে রিফিল শেষে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
তেঁতুলিয়ার একাধিক সিলিন্ডার ব্যবসায়ী বলেন, অবৈধ রিফিলের কারণে তাদের বিক্রি কমে গেছে। কম দামে গ্যাস পাওয়ায় ঝুঁকি জেনেও অনেকে সেখান থেকে সিলিন্ডার নিচ্ছেন।
স্টেশনের ম্যানেজার রুপচাঁন বলেন, “কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই আমরা রান্নার সিলিন্ডারে এলপিজি রিফিল করছি। রান্নার গ্যাসের সংকট থাকায় মানুষ সহজে এলপিজি পাচ্ছে।”
স্টেশনের মালিক রুমেল জানান, “স্টেশনের দায়িত্বে আবু হিরন ভাই আছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলুন।” তবে একাধিকবার ফোন করা হলেও আবু হিরন কল রিসিভ করেননি।
তেঁতুলিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ সিরাজুল হক বলেন, “রান্নার গ্যাস ও গাড়ির গ্যাস এক নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন আফরোজ খসরু বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি আমরা জেনেছি। প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভিওডি বাংলা/স্নিগ্ধা খন্দকার/আ







