দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে হাল ধরেছে বিএনপি: সেলিমা

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের যতগুলো ক্রান্তিলগ্ন এসেছে, প্রতিটি সময় বিএনপি হাল ধরেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে শিশু-কিশোর সংগঠন কলমকলি।
সেলিমা রহমান বলেন, স্বৈরাচার সরকার গত ১৫ বছর আমাদের উপর নির্যাতন করেছে। আমরা আমাদের শিশুদেরকে বিশেষ করে এই প্রজন্মকে অনেক কিছু শেখাতে পারিনি। তাদের মেধা বুদ্ধি বিকাশ ধ্বংস করে দিয়েছে স্বৈরাচার সরকার। গত ১৫ বছর বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের নানাভাবে নির্যাতিত নিপীড়িত গুম খুন করা হয়েছে। নেতাকর্মীরা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, একজনের নেতৃত্বে কোন দেশ কোন সমাজ কোন রাষ্ট্র পরিবর্তন হয় না। আমাদের বুঝতে হবে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের পেছনে অনেক শহীদ ভাইয়ের আত্মত্যাগ জড়িত ছিলো।
সেলিমা রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন কর্মসূচি মধ্য দিয়ে দেশ সংস্কার করেছেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে এই দেশটা আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠেছিল বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল।
‘জুলাই-আগস্টে আমাদের যে আন্দোলন হয়েছে, বুকের রক্ত দিয়ে যারা এদেশকে মুক্ত করেছে, তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা এবং অভিনন্দন। কিন্তু, সেই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, তাদের বুকের রক্ত কিন্তু এখনো শুকায়নি। রাজপথ এখনো তাদের রক্তে লাল হয়ে আছে। কিন্তু, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারত সরকার এ দেশে আন্তর্জাতিক চক্র হিসেবে নানারকম মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেশকে নানাভাবে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে আমরা কথা বলার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি। আমরা মুক্তভাবে নিশ্বাস নিতে পারছি। এটা কিন্তু দীর্ঘ আন্দোলনের ফল ছিল।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আজকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। একটা দানবীয় সরকার দুইটা প্রজন্মকে জিয়াউর রহমানের নাম জানতে দেয়নি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শিশুদের জন্য শিশু একাডেমি করেছেন, শিশু পার্ক করেছেন। এমন কিছু নেই, যা তিনি শিশুদের জন্য করেননি। নারী ক্ষমতায়নের সবচেয়ে বড় সংস্কারক ছিলেন জিয়াউর রহমান।
কলমকলির সভাপতি গোলাম কাদেরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সোহাগের সঞ্চালনায় আলোচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মো. রহমতুল্লাহ, প্রফেসর ড. আব্দুল হালিম, মশিউর রহমান আকন প্রমুখ।
ভিওডি বাংলা/ এমপি







