‘দ্রুত নির্বাচন নইলে অন্যান্য শক্তির উত্থান হতে পারে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘একটা কথা আমি বলি, যে কথা বললে পরে আমার সমালোচনাও হয়। আমি বলি যে, নির্বাচনটা দ্রুত হওয়া দরকার। কেনো বলি এই কথাটা আমি বারবার বলার চেষ্টা করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, যে নির্বাচন থেকে আমরা ১৫ বছর বঞ্চিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের জনগন তারা তাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করবার একটা সুযোগ পাবে। আপনারা দেখছেন যে, জোর করে সেই বিষয়টাকে যদি বিতর্কিত করে ফেলা হয় তাহলে তো জনগন আবার সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। আমাদের যে অভিজ্ঞতা সেই অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে, এই ধরনের নির্বাচন যদি দ্রুত না হয়, সময়ক্ষেপন করা হয়, তাহলে অন্যান্য্ শক্তিগুলো মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে থাকে। তখন জনগনের যে চাহিদা সেই চাহিদা থেকে তারা পুরোপুরিভাবেই বঞ্চিত হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একথাটা বার বার বলতে চাই, নির্বাচনে কে আসবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয় কিন্তু জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সেটার জন্য আমরা লড়াই করেছি দীর্ঘ ১৫ বছর। আমি সেই কারণে বলেছি যে, আমাদের দরকার সত্যিকার অর্থেই আমরা বর্তমান যে অন্তবর্তীকালীন সরকার আছেন সেই সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। স্বাভাবিকভাবে একটা ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পরেই জনগনের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। কিন্তু দূঃখজনক হলেও সত্য এখন পর্যন্ত সমাজের যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, সেই অবস্থায় কিন্তু আমরা সেই ধরনের একটা ব্যবস্থা দেখে এখনো নিশ্চিত হতে পারছি না যে দেশের মানুষের প্রত্যাশাগুলো পুরণ হবে।’
‘নির্বাচনের জন্য কত অপেক্ষা?
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন রকম প্রোগ্রাম আছে, সেই কর্মসূচি নিয়ে তারা এগুতে চায়। তবে একটা বিষয় সবাই একমত একটা নির্বাচন হওয়া দরকার। নির্বাচনটা শুধু একটা দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, নির্বাচনটা হচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যাওয়ার জন্য একটা পথ সৃষ্টি করা, একটা দরজা খোলা। আজকে প্রশ্ন উঠছে যে, সংস্কারগুলো সবগুলো করে আপনার নির্বাচন যাওয়ার প্রশ্ন। তাহলে কি আমরা ৪/৫ বছর ধরে অপেক্ষা করব বা যতদিন সংস্কার সম্পন্ন না হয় ততদিন ধরে অপেক্ষা করবে জনগন… তারা তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা এখনো দেখছি, আমাদের আমলাতন্ত্র আগের যে ব্যবস্থা ছিলো সেই ব্যবস্থায় তারা এখনো সচিবালয় থেকে শুরু করে সমস্ত প্রশাসনে তারা একইভাবে তাদের ভূমিকা পালন করছে… কোনো রদবদল হয়নি।বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, স্কুল-কলেজগুলোতে সেই ধরনের লেখাপড়া হয় না, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে… এটা অতীত থেকেই এসছে এবং সেই পরিবর্তন এতো অল্প সময়ের সম্ভবও নয় কিন্তু আমরা সেই পরিবর্তনগুলো চাই। সেই কারণে আমরা বলেছি যে, নির্বাচনটা দ্রুত হওয়া দরকার। নির্বাচন দ্রুত হলে যে দল ক্ষমতায় আসবে তার যে রাজনৈতিক কমিটমেন্ট টু পিপলস থাকবে সেই কমিটমেন্টগুলো পালন করার জন্য অবশ্যই তারা দায়বদ্ধ থাকবে।’
‘বেশ কিছু বিষয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মির্জা ফখরুল। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ আসাদ দিবসের এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই প্রশ্ন তুলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি একথা গতকালও বলেছি, আমাকে একজন সাংবাদিক ভাই এ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন যে, অন্তবর্তীকালীন সরকার যদি নিরপেক্ষ না থাকে তাহলে একটা নিরপেক্ষ সরকার দরকার হবে নির্বাচনের সময়ে। আমি কথাটা বলছি যে, এর কারণ আছে। কারণ হচ্ছে যে, আমরা দেখছি যে, বেশ কিছু বিষয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষতা পালন করতে পারছেন না।’
ফখরুল বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব...আমি প্রত্যাশা করব... আমি আশা করি যে, অন্তবর্তীকালীন সরকার তাদের সেই নিরপেক্ষতা পালন করবেন এবং দেশে যে সংকট আছে সেই সংকট থেকে দেশকে মুক্ত করবার জন্য তারা কাজ করবেন।’
‘নূন্যতম বিষয়ে ঐক্যমত জরুরী’
ফখরুল বলেন, ‘আসাদের মৃত্যু, আবু সাইদের সাহাদাত বরণ এবং আরও অসংখ্য মানুষের জীবনদান একাত্তর সাল থেকে… তার আগে থেকে শুরু করে একটা সত্যিকার অর্থে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য সেটাকে যদি সত্যিকার অর্থে আমাদের অর্থবহ করতে হয় তাহলে আমাদের যেটা প্রয়োজন হবে যে, নুন্যতম বিষয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আমরা যারা এক সাথে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন করছিলাম আমরা ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছি। এখন যদি কোনো পরিবর্তন করতে হয়, পরিবর্ধন করতে হয় সেটাও সামনে আসতে পারে, ওটাকে সামনে রেখেই আমাদের এগুতে হবে। আমি মনে করি, আমাদের এই নুন্যমত যে সংস্কার হচ্ছে নির্বাচন কেন্দ্রিক… সেই সংস্কার শেষ করে আমাদের অতি দ্রুত নির্বাচনের পথে যাওয়া উচিত এবং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সরকার বেরিয়ে আসবে তাদের দায়িত্ব হবে এখানে পুরোপুরিভাবে সেই সংস্কারের যে কমিটমেন্ট আছে সেই কমিটমেন্টগুলো বাস্তবায়িত করা, জনগনের প্রত্যাশা পুরণ করা। আসাদের রক্তকে, আবু সাইদের রক্তকে আমরা বৃথা যেতে দিতে পারেনি.. সেই জন্য আমাদের সকল ঐক্য গড়ে তুলে তাদের (শহীদদের) স্বপ্নকে আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে… এই হোক আজকের প্রতিজ্ঞা।’
জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শহীদ আসাদ পরিষদের উদ্যোগে এই ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক শহীদ আসাদের ৫৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা হয়।
১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তার এই আত্মত্যাগ স্বৈরশাসন বিরোধী চলমান আন্দোলনকে বেগবান করে। পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতন হয় স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খানের।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ‘র সভাপতিত্বে ও ভাসানী অনুসারি পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজুর সঞ্জালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, জহির উদ্দিন স্বপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, গণসংহতি আন্দোনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লুফুর রহমান, অপর অংশের সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান আসাদ, শহীদ আসাদের ছোট ভাই আজিজুল্লাহ এম নুরুজ্জামান নূর প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
ভিওডি বাংলা/ এমপি







