• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

টিনের দাপটে হারাচ্ছে ঐতিহ্যের কুড়েঘর

গাইবান্ধা প্রতিনিধি    ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১০ পি.এম.
কুড়েঘর। ছবি: ভিওডি বাংলা
কুড়েঘর। ছবি: ভিওডি বাংলা

গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য খড়, বাঁশ ও পাটখড়ি দিয়ে তৈরি কুড়েঘর। এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। একসময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রধান আশ্রয়স্থল ছিলো এই কুড়েঘর। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী এই বাসস্থান ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক দশকে টিনশেড ও পাকা ঘরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি আবাসন প্রকল্প ও প্রবাসী আয়ের প্রভাবে অনেক পরিবার কুড়েঘর ভেঙে আধুনিক ঘর নির্মাণ করেছে। ফলে গ্রামীণ প্রাকৃতিক উপকরণনির্ভর ঘর নির্মাণের প্রবণতা কমে গেছে।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও কুড়েঘর বিলুপ্তির অন্যতম কারণ। ঘূর্ণিঝড়, অতি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় এসব ঘর সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিবছর মেরামত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই টেকসই বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে খড় ও মানসম্মত বাঁশের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাণ খরচও আগের তুলনায় বেশি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুড়েঘর সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় নয়। পরিবেশবান্ধব ও কম কার্বন নির্গমনকারী আবাসন হিসেবে এর গুরুত্ব রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ও সঠিক নকশা ব্যবহারের মাধ্যমে কুড়েঘরকে আরও টেকসই করা সম্ভব।

কুড়েঘর শুধু একটি ঘর নয় এটি গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ। লোকসংস্কৃতি, গান, গল্প ও চলচ্চিত্রে কুড়েঘরের উপস্থিতি ছিলো স্পষ্ট। এখন সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে।

গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে কুড়েঘর সংরক্ষণে সচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুবা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কুড়েঘরকে শুধু বই বা ছবিতেই দেখবে।

ভিওডি বাংলা/ইমন মিয়া/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ২
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ঘিরে প্রাণ গেল ব্রাজিল সমর্থকের
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ঘিরে প্রাণ গেল ব্রাজিল সমর্থকের
ছবি: সংগৃহীত
পানির নিচে রেললাইন, বন্ধ কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল