সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সার্জারি সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন

সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। তাদের দাবি, নিয়মিত অস্ত্রোপচার, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সরকারি হাসপাতালেই জটিল সার্জারি সম্পন্ন হওয়ায় জেলার মানুষের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা আগের তুলনায় বেড়েছে। একই সঙ্গে কমেছে বিভাগীয় শহরে চিকিৎসার জন্য ছুটে যাওয়ার প্রবণতা।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এম. এ. আওয়াল (সোহেল) দায়িত্ব গ্রহণের পর অস্ত্রোপচার কার্যক্রম আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ও এফসিপিএস (সার্জারি) ডিগ্রিধারী একজন জেনারেল, ল্যাপারোস্কোপিক এবং কোলোরেক্টাল সার্জন। অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পিত্তথলির পাথর, হার্নিয়া, পাইলস, ফিসার, ফিস্টুলা, বৃহদন্ত্র ও মলদ্বারের বিভিন্ন জটিল রোগ, টিউমার এবং ক্যান্সারসহ নানা ধরনের অস্ত্রোপচারে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৪ জুলাই জামালগঞ্জ উপজেলার হুগলী গ্রামের বাসিন্দা ফজলু মিয়া তীব্র অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন সকালে ওয়ার্ড রাউন্ডে রোগীদের মূল্যায়নের পর ডা. সোহেল কয়েকজন রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করেন। পরে একই দিনে ধারাবাহিকভাবে তাদের অপারেশন সম্পন্ন করে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।
ফজলু মিয়ার স্বজনদের ভাষ্য, সরকারি হাসপাতালে দ্রুত অস্ত্রোপচার হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত খরচ ও সময় দুটোই বেঁচেছে। আগে একই ধরনের রোগ নিয়ে অনেককেই সিলেটে যেতে হতো, কিন্তু এখন জেলার হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে।
রোগীদের স্বজনরা জানান, অতীতে বিভিন্ন জটিল সার্জারির ক্ষেত্রে রোগীদের সিলেটে রেফার করার ঘটনা বেশি ছিল। বর্তমানে সদর হাসপাতালেই অনেক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ায় যাতায়াতের ঝামেলা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং চিকিৎসা পেতে বিলম্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষজ্ঞ সার্জনের নিয়মিত উপস্থিতি এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অস্ত্রোপচার পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন রোগীর স্বজন সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিনের কাছেও একই ধরনের সন্তুষ্টির কথা তুলে ধরেন। তাদের মতে, জেলায় পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা গেলে রাজধানী কিংবা বিভাগীয় শহরে রোগী পাঠানোর প্রয়োজন আরও কমে আসবে। এতে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষ নিজ জেলাতেই উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
রোগী ও স্বজনদের দাবি, শুধু একজন চিকিৎসকের প্রচেষ্টাই নয়, সার্জারি বিভাগের অন্যান্য চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিয়া টিম, নার্স এবং অপারেশন থিয়েটারের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সমন্বিত কাজের ফলেও চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রোগী মূল্যায়ন, অস্ত্রোপচার এবং পরবর্তী পরিচর্যার কারণে রোগীদের আস্থা বাড়ছে বলে তারা মনে করেন।
তবে সার্জারি বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। অপারেশনের সংখ্যা আগের তুলনায় কতটা বেড়েছে, সিলেটে রোগী রেফারের হার কতটা কমেছে কিংবা সামগ্রিক সেবার মান কী পরিমাণ উন্নত হয়েছে-এসব বিষয়ে সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিওডি বাংলা/এম আর সজিব/জা








মন্তব্য