যুক্তরাষ্ট্রের চাপে নত নয় ইরান: পেজেশকিয়ান

ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নত হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা আদায়ে সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন—এমন খবর সামনে আসার পর তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
শনিবার ইরানের প্যারালিম্পিক দলের সদস্যদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা কোনো সমস্যার মুখেই মাথা নত করব না। বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নিচু করাতে সারিবদ্ধ হয়েছে, কিন্তু আমরা নত হব না।’
সম্প্রতি ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। পরে সুইজারল্যান্ডে দ্বিতীয় দফা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, কূটনৈতিক সমাধান ‘হাতের নাগালে’ রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করে ওয়াশিংটনে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মার্কিন হুমকির পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এবারই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২০টির বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড আরব সাগরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে যোগ দিতে রওনা হয়েছে।
এদিকে ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ চায় না এবং উত্তেজনা বাড়াতে আগ্রহী নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আগ্রাসন চালালে তার ‘দৃঢ় ও সমানুপাতিক জবাব’ দেওয়া হবে।
রাজধানী তেহরান-এর বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক নারী বলেন, ‘যুদ্ধ নিয়ে কীভাবে চিন্তা না করি? নিজেদের না হোক, অন্তত সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেই হয়।’ এক ব্যবসায়ী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আত্মসমর্পণ চায়, কিন্তু ইরান তা মেনে নেবে না—সংঘাত হলে ব্যবসা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র জানে তারা সহজে ইরানকে পরাজিত করতে পারবে না; শেষ পর্যন্ত সমঝোতাই একমাত্র পথ।
ভিওডি বাংলা/ আ







