• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের হাওয়া: ফেসবুকেই শুরু চেয়ারম্যান-মেয়র লড়াই

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি    ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪১ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

নতুন মন্ত্রিসভার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কর্মদিবসেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর থেকেই টাঙ্গাইলের মধুপুরে উপজেলা ও পৌর নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবি ও নাম সম্বলিত পোস্ট ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুতগতিতে।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার। তার সমর্থকরা ফেসবুকে তাকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, দলের হয়ে একবার উপজেলা নির্বাচন করেছি। সামনে সুযোগ পেলে আবারও করতে চাই। দলের ভেতরে আপাতত আমিই সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির তালুকদার। মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তার সমর্থকরাও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি আরও কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে।

মেয়র পদে আলোচনায় এসেছে পরিবারিক উত্তরাধিকার বনাম সংগঠনভিত্তিক নেতৃত্বের প্রশ্ন। তিনবারের সাবেক মেয়র ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী জনপ্রিয় নেতা মরহুম সরকার শহিদের স্ত্রী আনোয়ারা খন্দকার (লিলি সরকার) সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

তিনি বর্তমানে পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি। তার ছেলে আদিত্য সরকার ফেসবুকে মায়ের ছবি পোস্ট করে সম্ভাব্য প্রার্থীতার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, সাবেক মেয়র পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে তিনি এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স জানান, আগেও দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছি, এবারও চাইবো। নির্বাচন পদ্ধতি ও দলীয় সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে। দল যাকে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা সেই অনুযায়ী এগোবো।

বিগত পৌর নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল লতিফ পান্নাও আবারও প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিগত নির্বাচনটি ছিল পাতানো। আমাকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন। রায়ের অপেক্ষায় আছি।”

মেয়র পদে আলোচনায় রয়েছেন প্রভাবশালী নেতা খন্দকার মোতালিবও। তিনি বলেন, দলের দুর্দিনে মাঠে ছিলাম, এখনো আছি। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন করবো। তার সমর্থকরাও সামাজিক মাধ্যমে তাকে “ভবিষ্যৎ মেয়র” হিসেবে উল্লেখ করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই আবার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়া ঠিক নয়-সরকারকে অন্তত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে অনেকেই বলছেন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় সরকার কাঠামো কার্যকরভাবে সেবা দিতে পারছে না। উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে। তাই দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন।

সচেতন মহলের অনেই মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হলেও মন্ত্রীর বক্তব্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগাম মাঠ গরম করতে শুরু করেছেন। আপাতত ফেসবুকভিত্তিক প্রচারণা হলেও খুব শিগগিরই তা মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগে রূপ নিতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য ঘোষণা ঘিরে মধুপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে, এমনটাই মনে করছেন সচেতনরা।

ভিওডি বাংলা/মোঃ লিটন সরকার/ আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
উলিপুর বাজারে মোবাইল কোর্ট: ৭ জনকে জরিমানা
কুড়িগ্রাম উলিপুর বাজারে মোবাইল কোর্ট: ৭ জনকে জরিমানা
বিএনপি নেতার মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা জেল হাজতে
বিএনপি নেতার মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা জেল হাজতে
পঞ্চগড়ে টিউলিপে পর্যটনের নতুন দিগন্ত
পঞ্চগড়ে টিউলিপে পর্যটনের নতুন দিগন্ত