• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

রমজান শুরুতেই মাছ-মাংসের দাম বাড়লো

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:২২ পি.এম.
রমজান মাসের শুরুতেই ক্রেতাদের ভিড়ের সঙ্গে মাছ ও মাংসের দাম চড়া হওয়ায় সাধারণ মানুষ দিশেহারা-ছবি-ভিওডি বাংলা

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে মাছ ও মাংসের দাম তুঙ্গে পৌঁছেছে। রমজানের আগে তুলনামূলকভাবে কম মূল্যে মাছ–মাংস বিক্রি হলেও মাসের শুরুতেই তা চড়া দামে বাজারে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারের দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন খরচের কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার, কৃষি মার্কেট, ঝিগাতলা কাঁচাবাজার ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ফলে ৩৫০ টাকার নিচে তেমন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

বাজারে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ চাষের মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম আকার অনুযায়ী ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকা। পাবদা, টেংরা ও বোয়াল প্রজাতির দেশি মাছ কেজিপ্রতি ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

মাছের পাশাপাশি মাংসের বাজারও অস্বাভাবিক। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর মিয়া বলেন, “কারওয়ান বাজার থেকে রাতের বেলা মাল এনে সকালে খুচরা বাজারে বিক্রি করি। পাইকারি দামের কারণে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। এর ফলে ক্রেতারা আমাদের ওপর ক্ষোভ দেখান, যদিও পাইকারি বাজারের দামের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।”

ঝিগাতলা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী রহমান উদ্দিন আরও বলেন, “পাইকারি বাজারের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ, বরফ ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হয়ে খরচ বেড়ে যায়। তাই চাইলেও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। এর ফলে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই মনোমালিন্য তৈরি হয়।”

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই দাম বাড়াচ্ছেন। রোজার শুরুতেই বাজারে মাছ ও মাংসের দাম আগের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁরা মনে করছেন, সরকারের কার্যকর তদারকি না থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

শরীফ উদ্দিন মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, “রোজার শুরুতেই নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। যে মাছ রমজানের আগে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় কিনেছি, তা এখন ৩৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। বড় মাছ কিনতে গেলে ৫৫০–৬০০ টাকার নিচে নেই। মাংসের বাজারেও একই অবস্থা।”

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে আসা আরেক ক্রেতা জসিম উদ্দিন জানান, “রমজানে বাজার করতে এলে পকেট প্রায় খালি হয়ে যায়। আগে যে মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনতাম, তা এখন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে এমন পরিস্থিতি দেখিনি।” তিনি আরও বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রমজানের মতো উৎসবমুখর সময়ে চাহিদা বৃদ্ধি স্বাভাবিক। তবে ব্যবসায়ীরা দামের ওপর অযথা প্রভাব সৃষ্টি করলে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পায়। তাই সরকারের তদারকি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা জরুরি।

রমজানের শুরুতেই মাছ-মাংসের বাজারে এই চড়া দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতাদের জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ক্রেতারা আশা করছেন, সরকার যদি বাজারে নজরদারি জোরদার করে এবং অতিরিক্ত দামের বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে রমজানের এই উৎসবমুখর সময়ে সবাই উপকৃত হতে পারবেন।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বেগুনের দাম দ্বিগুন, লেবু এবারও হয়নি কাবু
রোজার বাজার চড়া : বেগুনের দাম দ্বিগুন, লেবু এবারও হয়নি কাবু
রমজানের প্রথম দিনেই হু হু করে বাড়লো পেঁয়াজের দাম
রমজানের প্রথম দিনেই হু হু করে বাড়লো পেঁয়াজের দাম
রেমিট্যান্সে বইছে সুবাতাস, বেড়েছে রিজার্ভও
রেমিট্যান্সে বইছে সুবাতাস, বেড়েছে রিজার্ভও