ট্রলারসহ ৫ বাংলাদেশিকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদী থেকে মাছ ধরার পথে ট্রলারসহ পাঁচ বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করেছে মিয়ানমারের আরাকান আর্মি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১০টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদ্বীয়া অংশ থেকে এই ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শাহপরীর দ্বীপ ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জালিয়া পাড়া এলাকার মাহামুদুল্লাহর মালিকানাধীন ট্রলারে পাঁচ জেলে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে নাফ নদীতে বের হন। কাজ শেষ করে ফেরার পথে একটি স্পিডবোটে সশস্ত্র আরাকান আর্মি সদস্যরা এসে তাদের গতিরোধ করে। অস্ত্রধারী সদস্যরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই জেলেদের নৌকাসহ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
অপহৃত জেলেরা হলেন- শাহপরীর দ্বীপের জালিয়া পাড়া এলাকার শাহেদ, শাহ আলম, আমির আব্বাস, আবুল হোসেন এবং আরও একজন।
প্রত্যক্ষদর্শী জেলে আতাউর রহমান জানান, "আমরা পাঁচটি ট্রলার একসাথে ফিরছিলাম। হঠাৎ স্পিডবোটের শব্দ পেয়ে তারা মাহামুদুল্লাহর ট্রলারকে ঘিরে ফেলে। আমরা দ্রুত সরে আসতে পারলেও পাঁচ জেলেকে তারা তুলে নিয়ে যায়।"
মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি এই এলাকার মাধ্যমে যাতায়াতের কারণে পূর্বেও এ ধরনের অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিখোঁজ জেলেদের পরিবার ও স্বজনরা বিজিবি এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, একদিন আগেই অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি, আরাকান আর্মি ৬৭ বাংলাদেশি ও ৬ রোহিঙ্গাসহ মোট ৭৩ জেলেকে বিজিবির কাছে ফেরত দিয়েছে।
বিজিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে নাফ নদী সীমান্ত থেকে প্রায় ৪৫০ জেলেকে অপহরণ করেছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। এর মধ্যে ২৮০ জনেরও বেশি জেলে ফিরে আসলেও বাকিদের এখনও কোনও হদিস পাওয়া যায়নি। নতুন এই অপহরণ সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি করেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি তৎপর হয়ে জেলেদের উদ্ধারে অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত টহল তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, "সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার না হলে এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত হতে পারে। আমাদের জেলেরা প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে নদীতে যাচ্ছে। তাদের জীবন সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।"
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, এ ধরনের অপহরণের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ নজরদারি ও সমন্বিত ব্যবস্থা না হলে এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







