• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ইরানের দাবি:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার মূল নীতিতে সমঝোতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১১ এ.এম.
জেনেভায় মধ্যস্থতাকারী বৈঠকের পর পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মূল নীতিতে সমঝোতা-ছবি: সংগৃহীত

তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ‘মূল নীতিগুলো’ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর দাবি করেছে ইরান। জেনেভায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠক শেষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো বেশ কিছু কারিগরি ও কাঠামোগত বিষয় নিয়ে কাজ বাকি রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও আলোচনায় অগ্রগতির কথা স্বীকার করেছে, যদিও তারা বলছে-এখনো বহু বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও একাধিক দফা বৈঠক দরকার হবে।

জেনেভার এই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে ওমান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানান, আলোচনাটি ইতিবাচক পরিবেশে শেষ হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে শুধু রাজনৈতিক দিক নয়, কারিগরি বিষয় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও একটি সাধারণ কাঠামো চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এমন এক সময়ে, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ নতুন করে বাড়ছে। একই সঙ্গে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও শোনা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার বলেছেন, তার বিশ্বাস ইরান শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তিনি মনে করেন, সংঘাতের পথে না গিয়ে কূটনৈতিক সমাধানই সবার জন্য ভালো। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চুক্তি না হলে কঠোর পরিণতিও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ করে আসছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক ও জ্বালানি উৎপাদনকেন্দ্রিক।

জেনেভায় বৈঠকের আগে ইরান জানায়, তারা আলোচনায় নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। তেহরানের মতে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া কোনো চুক্তিই টেকসই হবে না।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা শুধু পারমাণবিক ইস্যুই নয়-ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। এতে করে আলোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা BBC-কে বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো বহু ব্যবধান রয়ে গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রতিনিধিরা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে ফের আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। সেই প্রস্তাবের মাধ্যমে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে থাকা অমীমাংসিত বিষয়গুলো কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কিছু ক্ষেত্রে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে এবং উভয় পক্ষ আবার বসতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট যে কয়েকটি শর্ত নির্ধারণ করেছেন, সেগুলো মানতে ইরানি পক্ষ এখনো অনাগ্রহী।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি নিজেও পরোক্ষভাবে আলোচনায় যুক্ত থাকবেন। তার মতে, ইরান সংঘাতের চেয়ে সমঝোতার পথেই এগোতে চায়। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চুক্তি না করার সম্ভাব্য পরিণতি ইরান নিশ্চয়ই বিবেচনায় রাখছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত অবস্থানের পর তেহরান পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। তার বক্তব্যে কৌশলগত বোমারু বিমানের উপস্থিতির কথাও উঠে আসে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত বহন করে।

গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln ইরানের নিকটবর্তী জলসীমায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ যুদ্ধজাহাজ USS Gerald R. Ford-কেও ওই অঞ্চলে মোতায়েনের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।

এ সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির জবাবে ইরানও শক্তি প্রদর্শন করেছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী এলাকায় সামুদ্রিক মহড়া চালায়। এই প্রণালীকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছিলেন, তেহরানের সঙ্গে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো সহজ হবে না। তবে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচও করেননি। তার মতে, সুযোগ আছে, কিন্তু পথটি কঠিন।

চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ওমানে প্রথম সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠককে ‘ভালো সূচনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল ইরান। জেনেভার সাম্প্রতিক বৈঠককে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। এখন নজর পরবর্তী দফা আলোচনার দিকে-সেখানে কতটা বাস্তব অগ্রগতি হয়, সেটিই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণ।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কিংবদন্তি জেসি জ্যাকসন আর নেই
নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কিংবদন্তি জেসি জ্যাকসন আর নেই
খাইবারে জোড়া বোমা বিস্ফোরণ ও গুলিতে নিহত ১৭
খাইবারে জোড়া বোমা বিস্ফোরণ ও গুলিতে নিহত ১৭
ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ সংলাপে যুক্ত হবেন ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ সংলাপে যুক্ত হবেন ট্রাম্প