• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৩ এ.এম.
তারেক রহমান-ছবি-ভিওডি বাংলা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। দেশের শাসনব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি আজ বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি।

একই অনুষ্ঠানে নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উন্মুক্ত দক্ষিণ প্লাজায় নির্মাণ করা হয়েছে অস্থায়ী বিশাল মঞ্চ, আলাদা ভিভিআইপি জোন এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য নির্ধারিত বসার ব্যবস্থা।

দিনের কর্মসূচি শুরু হবে সকাল থেকেই। সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত এমপিদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তিনটি ধাপে এই শপথ অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রতিটি ধাপে ১০০ জন করে সংসদ সদস্য শপথ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সাধারণত মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গভবনের দরবার হলে। তবে এবার দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্মুক্ত স্থানে আয়োজন করা হয়েছে পুরো শপথ অনুষ্ঠান। আয়োজকরা বলছেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও উন্মুক্ততার প্রতীক হিসেবেই এই ভেন্যু নির্বাচন করা হয়েছে। শপথ শেষে সন্ধ্যার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে কড়াকড়ি ব্যবস্থা। সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। খেজুরবাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং গণভবন ক্রসিং থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত লেক রোড এলাকায় সীমিত চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জোটটি মোট ২১২টি আসনে জয় পায়। এর মাধ্যমে দলটি ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। নির্বাচন-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে আজ শপথের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হচ্ছে।

অন্যদিকে ৬৮টি আসন পেয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান। নতুন সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের উপস্থিতিতে সক্রিয় বিতর্ক ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্ষমতা হস্তান্তরের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। তার ভাষণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্বকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় তারেক রহমান ‘৩১ দফা’ ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের শপথ অনুষ্ঠান সেই প্রতিশ্রুত সংস্কার যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক পর বাংলাদেশ একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে পর্যায়ক্রমে সরকার পরিচালনা করেছেন খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা। আজকের শপথ সেই ধারাবাহিকতায় একটি নতুন মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ভাষা আন্দোলনের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি
এমপি এস এম জাহাঙ্গীর: ভাষা আন্দোলনের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি
ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগেই স্বাধিকার ও গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে
তারেক রহমান: ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগেই স্বাধিকার ও গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে
ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগেই স্বাধিকার ও গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগেই স্বাধিকার ও গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী