• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

তিন আসনে ৭৯২ ভোট পেয়েছে অলির এলডিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪০ পি.এম.
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

একসময় নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আলোচনায় এলেও সময়ের সঙ্গে সাংগঠনিক ভাঙন ও নেতাকর্মী হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়া এলডিপি এবার নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে। জোটে থেকেও কোনো আসনে জয় পায়নি দলটি, এমনকি নিজ ঘাঁটিতেও পরাজয়ের মুখ দেখেছে নেতৃত্বের পরিবার।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ছেড়ে ২০০৬ সালে অলি আহমদ গঠন করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। শুরুতে দলটি আলোচনায় থাকলেও পরে ভাঙন, দলত্যাগ ও সাংগঠনিক দুর্বলতায় প্রভাব হারায়। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটে যুক্ত হয়ে সাতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো আসনেই জয় পায়নি এলডিপি। চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ) আসনেও বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন–এর কাছে হেরে যান অলির ছেলে ওমর ফারুক।

বিএনপি ছাড়ার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে এলডিপি ১৮টি আসনে প্রার্থী দেয় এবং একটি আসনে জয় পায়। ওই নির্বাচনে চন্দনাইশ আসন থেকে জয়ী হন অলি আহমদ নিজেই। তখন ১৮ আসনে দলটির মোট প্রাপ্ত ভোট ছিল এক লাখ ৯১ হাজার ৬৭৯। এবারের নির্বাচনে সাতটি আসনে অংশ নিয়ে এলডিপি পেয়েছে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৩ ভোট। এর মধ্যে তিনটি আসনে তাদের প্রাপ্ত ভোট মাত্র ৭৯২। ফলে দলটির ভবিষ্যৎ ও নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নির্দিষ্ট কয়েকটি আসনে এলডিপির প্রাপ্ত ভোট ছিল খুবই কম। চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে প্রার্থী এয়াকুব আলী পান ১১৮ ভোট। ভোলা–২ (দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন) আসনে মোকফার উদ্দিন চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ৩৮১। আর ময়মনসিংহ–১০ (গফরগাঁও) আসনে মাহমুদ মোরশেদ পান ২৯৩ ভোট। তবে বাকি আসনগুলোতে তুলনামূলকভাবে বেশি ভোট পেয়েছে দলটি।

দলটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম ২০১৯ সালের শেষ দিকে এলডিপি ছেড়ে বিএলডিপি নামে নতুন দল গঠন করেন। পরে দলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং সর্বশেষ লক্ষ্মীপুর–১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়ী হন। এর আগে ২০০৭ সালে সাবেক বিএনপি নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরী এলডিপি ত্যাগ করে বিকল্পধারা নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বিএনপি তাঁকে মর্যাদার সঙ্গে জোটে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি জামায়াত জোটে ভিড়েছেন। আমরা তো ভোটের ফল দেখলাম। চোখের সামনে একজন বড় রাজনীতিবিদের আত্মহত্যা দেখলাম।

অলি আহমদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশে এবং এলাকায় তার দীর্ঘদিনের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালে তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করেন, যা তার জনপ্রিয়তা বাড়ায়। তবে এবার জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থানীয় অনেকেই ইতিবাচকভাবে নেননি।

ছেলের পরাজয় নিয়ে অলি আহমদ সন্তুষ্ট নন। তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে ওমর ফারুককে হারানো হয়েছে।

ওমর ফারুক বলেন, এলডিপি জামায়াত জোটে আছে, ভবিষ্যতেও এই জোটে থাকবে। নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলনের আমিরের বাসায় যাবেন তারেক রহমান
সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলনের আমিরের বাসায় যাবেন তারেক রহমান
ঢাকা-১০ আসনের তরুণদের প্রত্যাশা: মন্ত্রিসভায় দেখতে চান রবিউলকে
ঢাকা-১০ আসনের তরুণদের প্রত্যাশা: মন্ত্রিসভায় দেখতে চান রবিউলকে
জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে এনসিপি
জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে এনসিপি