ঢাকা-১০ আসনের তরুণদের প্রত্যাশা: মন্ত্রিসভায় দেখতে চান রবিউলকে

রাজধানীর ঢাকা–১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবিকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান এলাকার তরুণরা।
স্থানীয় তরুণদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, তিনি মন্ত্রী হলে ঢাকা–১০ আসনের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, নাগরিক সমস্যা সমাধানে গতি আসবে এবং জাতীয় রাজনীতিতে এলাকার প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হবে।
ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, কলাবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় কথা বলে জানা গেছে, তরুণদের মধ্যে শেখ রবিউল আলম রবিকে ঘিরে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনের আগে দেওয়া উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তরুণদের বিভিন্ন উদ্যোগে সম্পৃক্ততা তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা:
তরুণদের মতে, ঢাকা–১০ আসনে দীর্ঘদিন ধরে যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান সংকট ও নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতার মতো বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে একজন শক্তিশালী নীতিনির্ধারক হিসেবে শেখ রবিউল আলম রবির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ধানমন্ডির বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, আমাদের এলাকার অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়ে গেছে। শেখ রবিউল আলম রবি মন্ত্রী হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত হবে বলে আমরা আশা করি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান ও আধুনিক সুযোগ–সুবিধা বাড়াতে তার উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি মন্ত্রিসভায় থাকলে তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
হাজারীবাগের ব্যবসায়ী রাশেদ মাহমুদ বলেন, আমরা চাই আমাদের এলাকার প্রতিনিধিত্ব জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালো হোক। তিনি মন্ত্রী হলে এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা তানভীর আহমেদ বলেন, শেখ রবিউল আলম রবি তরুণদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেন। তাই আমরা মনে করি, তরুণ সমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
উদ্যোক্তা কামাল উদ্দিন বলেন, এলাকায় ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য নীতিগত সহায়তা দরকার। তিনি মন্ত্রী হলে ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে বলে আমরা আশা করি।
তরুণ সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্যতা:
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং উন্নয়নমুখী বক্তব্যের কারণে শেখ রবিউল আলম রবির প্রতি তরুণদের সমর্থন বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষা, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং আধুনিক নগর সুবিধা নিয়ে তার অবস্থান তরুণদের কাছে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তরুণরা মনে করেন, জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে স্মার্ট নগর ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদ:
স্থানীয়দের মতে, ঢাকা–১০ আসন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও অনেক নাগরিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। উন্নত সড়কব্যবস্থা, পরিকল্পিত নগরায়ণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তরুণদের ধারণা, মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে শেখ রবিউল আলম রবি এসব খাতে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সমন্বয় বাড়বে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভা গঠন সম্পূর্ণভাবে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে তরুণদের এমন প্রত্যাশা তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক শক্তিরই প্রতিফলন।
তাদের মতে, তরুণদের সমর্থন একজন নেতার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রত্যাশার কেন্দ্রে তরুণ সমাজ:
সব মিলিয়ে ঢাকা–১০ আসনের তরুণরা চান, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করুন এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখুন। তাদের বিশ্বাস, শেখ রবিউল আলম রবি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে ঢাকা–১০ আসনের উন্নয়ন এবং তরুণ সমাজের সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হবে।
তরুণদের ভাষায়, এলাকার উন্নয়ন, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত প্রতিনিধিত্ব—সব দিক থেকেই আমরা তাকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাই।
ভিওডি বাংলা/সবুজ/এমএস







