নাইজেরিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৩২

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের নাইজার রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বোরগু এলাকার কয়েকটি গ্রামে মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে Al Jazeera।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক। সেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে ISIL–সম্পৃক্ত দল ও বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং গ্রামাঞ্চলে হামলার মতো সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
নাইজার রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে প্রথম দফায় হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। সেখানে অন্তত ছয়জন নিহত হন এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কতজনকে অপহরণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার পর একই দল পাশের কনকোসো গ্রামেও আক্রমণ চালায় বলে জানান তিনি।
কনকোসো গ্রামের বাসিন্দা জেরেমিয়া টিমোথি বার্তা সংস্থা Reuters-কে বলেন, ভোরের দিকে হঠাৎ গুলির শব্দে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত ও নিখোঁজের সংখ্যাও কম নয় বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, Agence France-Presse (এএফপি)–কে দেওয়া এক মানবাধিকারকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, কনকোসো গ্রামে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তিনি দাবি করেন, সেখানে প্রাণহানির সংখ্যা ৩৮ জনে পৌঁছেছে। হামলাকারীরা বহু বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং গ্রামবাসীর ওপর নৃশংস সহিংসতা চালিয়েছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কনকোসোর আরেক বাসিন্দা এএফপিকে জানান, হামলার সময় তার এক স্বজন নিহত হন এবং চার নারীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলাকারীরা পরে পিসা গ্রামেও যায়, সেখানে একটি পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগ ও একজনকে হত্যার ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। তবে দুর্গম এলাকা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে হতাহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সময় লাগছে। কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







