জুলাই ছাত্রঅভ্যূত্থানে
মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঁড়িতেই লুটিয়ে পরে ইসমাইল!

মেহেদী হাসান রিয়াদ
জুলাই আগষ্টের আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন প্রায় ২ হাজারেরও বেশি মানুষ। তার মধ্যে, সারাদেশে শ্রমিক নেতা ও তাদের পরিবারের সদস্য নিহত হয়েছেন প্রায় ৭০জন। তেমনি একজন শহীদ, শ্রমিক দল নেতা, রিক্সা চালক মোঃ ইসমাইল।
১৯ জুলাই শুক্রবার, বিকেল প্রায় ৪টা। আন্দোলনে উত্তাল রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, বনশ্রী, বাড্ডার এই পুরো রাস্তা।
রামপুরা টিভি ভবনের সামনে, আর ব্রিজের উপর থেকে দুই দিকে চলছিলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টানা গুলি বর্ষণ।
রাস্তায় গাছ আর ল্যাম্পপোষ্ট ফেলে প্রতিরোধ গড়ে তুলে আন্দোলনকারীরা। কিছুক্ষণ পর পর হেলিকপ্টার দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয় তাদের। পর পরই গুলি করতে করতে এগুতে থাকে বাহিনীর সদস্যরা। একের পর এক গুলিবিদ্ধ হতে থাকে আন্দোলনকারীরা।
দেশকে ভালোবেসে পরিবারের বাঁধা উপেক্ষা করে পরিবারের নিষেধ থাকা সত্বেও লুকিয়ে লুকিয়ে আন্দোলনে যেতেন ইসমাইল। রামপুরার ডেল্টা হেলথ কেয়ার হাসপাতালের সামনে সেদিন গুলিবিদ্ধ হন শ্রমিক দল নেতা, রিক্সা চালক ইসমাইল।
মাথায় গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গে ঘিলু বেরিয়ে আসে ইসমাইলের। তাৎক্ষণিক সিঁড়িতে লুটিয়ে পরেন তিনি।
শহীদ মোঃ ইসমাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর নতুন হাটি গ্রামের মৃত মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে।
রাজধানীর হাতিরঝিলের উলন এলাকায় ছোট্ট একটি ভাড়া ঘরে ইসমাইলের সংসার। ১৯ জুলাই দুপুর পর্যন্ত ঘরেই ছিলেন। স্ত্রী লাকী বেগমকে নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায় ইসমাইল। আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র-জনতাকে ডিম আর পানি কিনে খাইয়েছিলেন তিনি। ঠিক তখনই বিজিবি’র গুলিতে প্রাণ যায় তাঁর।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী স্বামী ইসমাইল শহীদ হওয়ার পর দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে আত্মীয়দের সাহায্যে কষ্টেই দিন কাটছে লাকী বেগমের। সরকারের কাছে আবেদন, তার বড় মেয়েকে যেন একটা চাকুরির ব্যবস্থা করা হয়।
ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া স্বামী ইসমাইলকে নিয়ে গর্ববোধ করেন স্ত্রী লাকী বেগম। তবে, সরকারের কাছে দাবী, তাঁর স্বামী হত্যার যেন বিচার করা হয়।
ভিওডি বাংলা/এম







