‘মেধার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রত্যেক জেলায় নেতাকর্মীদের রাজনীতির প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। বিশেষ করে স্লোগান, বক্তৃতা, সভা সঞ্চালনা ইত্যাদি বিষয়ে নেতাকর্মীদের ধারণা দেওয়া খুবই প্রয়োজন।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সদস্য নবায়ন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ আমাদের এখন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে। আমাদের কর্মীরা আমরা কেনো জানি না রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। গতকাল আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর দিবস পালন হলো… এখানে আমাদের কর্মীরা যারা আসেন সাধারণত ভাইদের পেছনে আসে… এসে সেই ভাইদের পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকে… তারপর শ্লোগান দেয় পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিন।এটা রাজনীতি না। ই্ট ক্যান নট বি পলিটিক্স।”
তিনি বলেন, ‘‘দেখুন রাজনৈতিক কর্মীর মুখ থেকে এধরনের শ্লোগান আসা উচিত নয় এবং সেখানে কতটা ব্যাকক্রাফসি কত একটা দেউলিয়াপনা হতে থাকে রাজনীতি.. সেটা বুঝা যায়। আমাদের এক জায়গায় চরম দৈন্য আছে… এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিত। আমি মনে করি, আমরা যারা রাজনৈতিক নেতৃত্ব করছি… আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব উদ্যোগ নেবেন… এখন পর্যন্ত যত ভালো কাজ হয়েছে চেয়ারম্যান সাহেব উদ্যোগ নিয়েছেন… এখন কোম্পলসারি করতে হবে প্রত্যেকটি উপজেলা এবং জেলাতে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ, এটাকে জরুরী করতে হবে। বিএনপিকে আদর্শ দলে পরিণত করতে হবে, মেধার নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।শুধুমাত্র শ্লোগান দিয়ে আমরা সামনে, আরও সামনের যুদ্ধ জয় করতে পারবো না।”
প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত বক্তব্য রাখেন।
প্রাথমিক সদস্যপদ নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যার শামসুজ্জামান দুদু, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উ্ন নবী খান সোহেল, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবদুস সালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবে রহমান শামীম, শ্যামা ওবায়েদ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলমসহ সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠিত সম্পাদক, মহানগর উত্তর-দক্ষিন বিএনপি, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন। মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত নেতৃবন্দ তাদের সদস্যপদ নবায়ন করেন।
তিনি বলেন, সত্যিকারের অর্থে একটা রাজনৈতিক দল করা প্রয়োজন। এখন যে প্রতিযোগিতা আসছে সেখানে স্লোগান দেওয়ার প্রতিযোগিতা নয়; মেধা ও বুদ্ধির প্রতিযোগিতা দিতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া ও টকশোতে কে কত ভালো কথা বলতে পারেন, যুক্তি খণ্ডন করতে পারেন সে প্রতিযোগিতা দিতে হবে। এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। শুধু স্লোগান দিয়ে সামনে যুদ্ধে জয় হওয়া সম্ভব না।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ইতিপূর্বে আমরা সদস্যপদ ও নবায়ন কর্মসূচি করেছি। এই বিষয়টা চলমান প্রক্রিয়া। কিছুদিন পর সদস্য পদ নবায়ন করা উচিত বলে আমরা মনে করি। এইজন্য এবার আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে নির্দেশ দিয়েছেন, সে অনুযায়ী সদস্যপদ নবায়ন করছি। এই কাজটা মূলত দপ্তরের কাজ। এই বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা হলো বইগুলো প্রত্যকটা জেলা উপজেলা-থানা-ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে যাবে। এই বিষয়টি নিশ্চিত করবে আমাদের সাংগঠনিক সম্পাদকেরা। এই কাজটা করা হলে এক মাসের মধ্য আমরা তৃণমূলে পৌঁছে যাব।
তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমার একটি মতামত আছে যেটা শুনতে ভালো লাগবে না। আগে যেটা হয়েছে, আমাদের যারা আগ্রহী এমপি পদপ্রার্থী ছিলেন, তারা সবগুলো কিনে নিয়ে গেছেন। এটা যেন না হয়। সেটা যেন সাংগঠনিকভাবে যায়। নতুন সদস্য নেওয়ার ক্ষেত্রে মেধা ও নীতি-নৈতিকতার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ভিওডি বাংলা/ এমপি







