‘দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হলে সরকারের পায়ের নিচে মাটি থাকে না’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, আমরা অভূতপূর্ব গণ অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের একটা নতুন যাত্রায় আছি। এই যাত্রা আমাদের সফল করতে হবে। আমরা যাতে ব্যর্থ না হই, সেদিকে আমাদের সকলের মনোযোগ রাখা রাখতে হবে।
রোববার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট অডিটোরিয়ামে ‘চেতনায় বাংলাদেশ’ আয়োজিত বাংলাদেশ ২.0 - বাংলাদেশ ভবিষ্যত প্রতিষ্ঠার জন্য সংস্কার ও মতামত শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন জোনায়েদ সাকি।
তিনি বলেন, এখন আমাদের যাত্রাটা কী সেটাও বার বার পরিষ্কার করা দরকার। আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে মানুষের জন আকাঙ্খা প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু বার বার সেই কথাটি আমাদের ম্মরণে রাখা দরকার। সামনে নিয়ে আসা দরকার। আমরা অনেক সময় যখন একটা শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করি, একটা অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করি তখন নানাভাবে আমরা নতুনভাবে যাত্রা করতে চাই; কারণ সেই অপশক্তির ছায়াভর করতে থাকে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা একটা সরকারের পতন ঘটিয়েছি। যে সরকারটা একটা ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল। অনেকটা সক্ষম হয়েছিল; গুম খুন অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড, বিরোধীমত দমন, নানাভাবে বিভাজন সৃষ্টি, নিষিদ্ধ করা। লুটপাট করা অভূতপূর্বভাবে। একটা দেশের অর্থনীতির অর্ধেক ফোকলা করে দিয়েছে। শ্বেতপত্র কমিটি বললেন ২৩৮ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষমতার খুঁটি গুলোকে লুটের সুযোগ দিয়েছে; এবং লুটের ভাগ দিয়ে ১৫ বছর গুম করে খুন করে হত্যা করে এবং নিষিদ্ধের আওয়াজ তুলে তারা আমাদের শাসন করেছে। এখন আমরা যখন নতুন যাত্রা করতে চাইছি; আমরা তো এই শক্তিটার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। যে ব্যবস্থা তারা কায়েম করেছিল সেটা কি এখনেই বদলে গেছে? বদলে যায়নি। এই ব্যবস্থার পক্ষে যারা কাজ করেছে তারা সবাই বদলে গেছে? বদলে যায়নি, তারা এখনো আছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থার এমনকি সমাজের বিভিন্ন স্তরে, এমনকি ক্ষমতার কেন্দ্রীয় জায়গাগুলোতেও তাদের অবস্থান আছে। এইটা যেমন একদিকে সত্য, অন্যদিকে সত্য হচ্ছে যারা আন্দোলনকারী তাদেরকে লক্ষ্যে পৌছাতে বাধা দিতে চায়।
জোনায়েদ সাকি বলেন, এই ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ তাদের নিজেদের সমস্ত অপরাধ, পূর্ববর্তী সব অপরাধ সেগুলোকে তারা মুছে দিতে চেয়েছে। আর বাকী সকলের অপরাধকে খুঁজে খুঁজে কুঁড়ে কুঁড়ে বের করেছে। উল্টোদিকটা দেখুন- কেবল মাত্র আওয়ামী লীগের অপরাধ খুঁজে খুঁজে দেখা হবে? বাকীদের যেন কোনো অপরাধ নেই। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, ন্যায়বিচার ছাড়া কোনো দেশ এগোতে পারে না। সেটা আপনি-আমি যেই করি না কেন? অন্যায় যদি আমাদের মধ্যেও হয়ে থাকে তার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে সেই রকম বাংলাদেশ মানুষ চায়। আওয়ামী লীগের মতো এক দলীয় চোখ, কানা চোখ, নিজেদের স্বার্থের বাইরে আর কিছু হবে না এই রকম বাংলাদেশ চায় না। গণতান্ত্রিক ন্যায় বিচারের বাংলাদেশ মানে সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ। সেকারণে আমরা সব সময় বলি ন্যায় বিচার দিয়ে আমাদের যাত্রা করতে হবে। সত্যিকার অর্থে আগামী দিনে যদি আর ফ্যাসিবাদকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেখতে না চাই তাহলে ন্যায় বিচার চাই। আমাদের রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে আর যেন কেউ ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে; সেটা যদি আমরা নিশ্চিত করতে চাই তাহলে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অপরাধ বর্তমান সরকার করুক ভবিষ্যতের সরকার করুক; জনগণ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে। সেই রকম রাষ্ট্র ব্যবস্থা আমাদের তৈরি করা দরকার। সেটা তৈরি করতে গেলে ক্ষমতার জবাবদিহিতা দরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা এমন একটা সময় ঐতিহাসিক সময়ে দায়িত্ব পালন করছেন; যখন আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন কোনো পদক্ষেপ নিবেন না যাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সরকারের দুরত্ব সৃষ্টি হয়। যদি দূরত্ব সৃষ্টি হয় তাহলে এই দলগুলো যাদের সম্মতিতে সরকার দাড়িয়ে আছে; তখন সরকারের কিন্তু পায়ের তলায় মাটি থাকে না। কাজেই সরকারকে জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে রাজনৈতিক উত্তোরণ শেষ করতে হবে।
আমরা শুরু থেকে বলেছি এই অভ্যুত্থান সকলের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা সম্ভব কোন কোন সংষ্কার নির্বাচনের আগেই সম্ভব; সেটা করতে কতদিন লাগবে। পুরো রোডম্যাপ আগামী কিছু দিনের মধ্যে তৈরি করা সম্ভব। সব সংষ্কার নির্বাচনের আগে সম্ভব না। কারণ সংবিধানের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন করতে হলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি লাগবে।







