মুফতি আব্দুল মালেক:
গণভোটের কাঠামো জনগণকে পেরেশানিতে ফেলে

বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, গণভোটের বর্তমান কাঠামো জনগণকে পেরেশানি ও যন্ত্রণার মধ্যে ফেলেছে। তিনি বলেন, ভোটে একসাথে পাঁচ থেকে আটটি বিষয়ে একক ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যা ভোটারদের ব্যক্তিগত মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত করছে।
সাম্প্রতিক এক খুতবায় তিনি বলেন, “ভোটাররা প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মত দিতে পারছে না। আলাদা অপশন থাকলে তারা প্রতিটি বিষয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে সব বিষয়ে একইভাবে হ্যাঁ বা না বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক একটি অবস্থান গ্রহণ করতে হচ্ছে।”
মুফতি আব্দুল মালেক আরও বলেন, একজন ভোটার কোনো কোনো বিষয়ে একমত হতে পারেন, আবার কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আলাদা প্রশ্ন থাকলে তারা সেভাবেই উত্তর দিতে পারতেন। তবে বর্তমান ব্যবস্থায় এটি সম্ভব নয়, যা জনগণকে পেরেশানি ও চাপের মধ্যে ফেলেছে।
তিনি ভোটকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভোট দেওয়ার সময় ভয়, লোভ বা প্ররোচনায় প্রভাবিত না হয়ে সচেতনভাবে ও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ভোট দিতে হবে। এই ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় মসজিদের খতিব বলেন, গণভোটে ভোটারের অধিকার রয়েছে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনো একটি বিকল্প বেছে নেওয়ার। সরকার বা রাজনৈতিক দল ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহ দিতে পারে, কিন্তু ভোটারকে কোনো একটি পক্ষ নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
তিনি ভোটারদের সতর্ক করেছেন, ভোট দেওয়ার সময় দলীয় নাম, প্রতীক বা স্লোগানে প্রভাবিত না হওয়ার। ইসলামের নাম ব্যবহার করলেই কোনো দল ইসলামসম্মত নয় — এটা যাচাই করা জরুরি। মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, অনেক দল ইসলামসম্মত ভাব প্রকাশ করলেও তাদের কর্মকাণ্ড সেকুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ ধারার মতো হতে পারে। তাই ভোটারদের উচিত দলের আদর্শ, ইশতেহার ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে ভোট দেওয়া।
মুফতি আব্দুল মালেক ভোটারদের পরামর্শ দিয়েছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিন্তাভাবনা করা, অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ক্ষমতায় আসুক সেই ব্যক্তি, যার অন্তরে আল্লাহভীতি এবং মানুষের প্রতি দয়া-মমতা রয়েছে।
খুতবার মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হলে সচেতন থাকতে হবে। কোনো চাপ, প্রলোভন বা রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পড়া চলবে না। ভোটারদের উচিত চরিত্র, তাকওয়া ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
মুফতি আব্দুল মালেক শেষ করেন, দেশের উন্নয়ন কেবল ভোটের ওপর নির্ভরশীল নয়। শাসকদের নিয়ত ও জনগণের ভাগ্যও এর সঙ্গে যুক্ত। বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত না হয়ে ভোট দিয়ে আমানত রক্ষা করাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
ভিওডি বাংলা/জা







