• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বিএনপি ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহার:

৯ প্রধান প্রতিশ্রুতি ও ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৭ এ.এম.
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-ছবি-ভিওডি বাংলা

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দলের নতুন ইশতেহারের মূল স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

বিএনপির এবারের ইশতেহার তিনটি মূল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা রাষ্ট্রদর্শন, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’, এবং তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা। দলটি বারবার উল্লেখ করেছে, তারা স্লোগান নয়, বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ওপর বিশ্বাসী।

এই ইশতেহারকে ৫টি অধ্যায় এবং আগামী পাঁচ বছরের ৫১টি গুরুত্বপূর্ণ দফা-তে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি ৯ প্রধান প্রতিশ্রুতি
১. ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হবে। প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। সহায়তা পরিমাণ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাবে।
২. কৃষক কার্ড: কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। এতে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বীমা এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মৎস্য ও পশুপালন খাতের উদ্যোক্তাদেরও সুবিধা দেওয়া হবে।
৩. স্বাস্থ্যসেবা: সারাদেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা এবং মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করা হবে।
৪. শিক্ষা: বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।
৫. তরুণ ও কর্মসংস্থান: তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
৬. ক্রীড়া: জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। খেলাধুলাকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
৭. পরিবেশ ও জলবায়ু: আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন বা পুনঃখনন, এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
৮. ধর্মীয় সম্প্রীতি: ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য সব ধর্মের উপাসনালয়ে ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
৯. ডিজিটাল অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপাল’ চালু করা হবে। ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইশতেহারের ৫টি প্রধান অধ্যায়
১. রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার ও সুশাসন:
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, সাংবিধানিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসন সংস্কার এবং ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত।
২. সামাজিক উন্নয়ন ও বৈষম্য নিরসন:
দারিদ্র্য নিরসন, সামাজিক সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, যুব উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ অধ্যায়ের মূল বিষয়।
৩. ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য:
অর্থনীতির ‘গণতন্ত্রায়ণ’, বিনিয়োগ ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংস্কার, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), ব্লু ইকোনমি ও সৃজনশীল অর্থনীতি উন্নয়নের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত।
৪. অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগর:
চট্টগ্রামকে ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা, উত্তরাঞ্চল, হাওর-বাওড় ও উপকূলীয় অঞ্চলের আলাদা উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও ঢাকাকে নিরাপদ মেগাসিটি হিসেবে গড়ার প্রতিশ্রুতি।
৫. ধর্ম, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম:
ধর্মীয় সম্প্রীতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা, ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতি উন্নয়ন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি শুধুই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি ‘নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি’। দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ- লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা। নির্বাচিত হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে প্রধান লক্ষ্য।

এবারের ইশতেহার তারেক রহমানের জন্য নতুন রাজনৈতিক মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যা তার নির্বাচনী নেতৃত্বের প্রথম ইশতেহার।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঢাকা-১৭ ভোটারদের অনলাইনে স্লিপ সংগ্রহের সুযোগ চালু করেছে বিএনপি
ঢাকা-১৭ ভোটারদের অনলাইনে স্লিপ সংগ্রহের সুযোগ চালু করেছে বিএনপি
সিলেটে ‘দাদু ইজ কামিং’, ডা. শফিকুর রহমানের জনসভা আজ
সিলেটে ‘দাদু ইজ কামিং’, ডা. শফিকুর রহমানের জনসভা আজ
বিএনপির ইশতেহার ঘোষণায় ৩৮ দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতি
বিএনপির ইশতেহার ঘোষণায় ৩৮ দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতি