• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ইসলামী আন্দোলনের ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৬ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি তাদের নির্বাচনী ঘোষণাপত্রের নাম দিয়েছে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের আইএবি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি বলেন, ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ নামকরণের পেছনে রয়েছে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জনগণের প্রত্যাশাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত করার অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্য থেকেই এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন হলো রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতি নির্ধারণের মাধ্যম। আর ইশতেহারের মাধ্যমে একটি দল তার নীতি-ভাবনা, কর্মসূচি ও দেশ গঠনের পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই উদ্দেশ্যেই তাদের ইশতেহার পেশ করেছে।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় যে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, তাতে দুই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্বের শিকার হন। এর মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারী, আহত ও আত্মত্যাগকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তিনি জানান, ইশতেহারটি তিনটি অধ্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে—রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারের পরিকল্পনা এবং খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলাম কেবল প্রচলিত অর্থে ধর্ম নয়; বরং বিশ্বাস, ইবাদত এবং জীবন পরিচালনার সব ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়। বিশেষ করে রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থার মতো বৃহৎ যৌথ প্রকল্পে ইসলামের বিস্তৃত ও শতাব্দীব্যাপী চর্চিত নীতিমালা রয়েছে, যার আলোকে দীর্ঘ সময় মানবসভ্যতা শান্তি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতির মধ্যে রয়েছে আদালত, ইনসাফ, নাগরিক স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, জবাবদিহিতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে এসব নীতির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতা থেকে দেশকে বের করে আনা হবে। ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য সাংবিধানিকভাবে স্পষ্ট করা হবে, যাতে নির্বাহী আধিপত্য ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমে আসে। জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা জোরদার করার অঙ্গীকারও করা হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, দলটি দেশের সব নাগরিককে সমান অধিকার ও মর্যাদার ভিত্তিতে বিবেচনা করে। ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু হিসেবে দেখা হবে না। সবার ধর্মীয় বিশ্বাস ও চর্চার জন্য নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতা বজায় রাখতে কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, শরীয়াহ অনুযায়ী নারীদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে আইনগত ও সামাজিক বাস্তবায়ন জোরদার করা হবে। পথশিশু ও বস্তিবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নীতি প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি গৃহকর্মী, অনানুষ্ঠানিক ও অবৈতনিক পরিচর্যা কাজে নিয়োজিত নারীদের শ্রমের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হলো দুর্নীতি। ইসলামী আন্দোলন নৈতিক, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বহুমাত্রিক কৌশলে ও কর্মপন্থায় দুর্নীতিকে ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে। দুর্নীতিবিরোধী আইন ও নীতিমালা কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা জোরদার করা হবে এবং বাজারে প্রবেশ ও কার্যক্রমে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাজার ও সেবাখাতে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত করা হবে। সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর করা হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতির ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক ও প্রকাশ্য শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না থাকে। সেবাখাতে সিন্ডিকেট চক্র বন্ধ করা হবে এবং সেবা প্রদানে ঘুষ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সবশেষে চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারীর প্রতি দায়বদ্ধ এবং নারীর বর্তমান পরিস্থিতি যে সমস্যাজনক, তা স্বীকার করে। নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ দেশের হাজার বছরের বোধ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের আলোকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
অবৈধ দখল উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ইশরাক
অবৈধ দখল উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ইশরাক
ধনপুরে খাল খনন সংস্কার কাজের উদ্বোধন করলেন এম এ মালিক
ধনপুরে খাল খনন সংস্কার কাজের উদ্বোধন করলেন এম এ মালিক
ওমরাহ পালন করতে গেলেন ডা. শফিকুর রহমান
ওমরাহ পালন করতে গেলেন ডা. শফিকুর রহমান