• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
টপ নিউজ
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের চাঞ্চল্যকর তথ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসকে দেখতে গেলেন জামায়াত আমির ঢাকার ভোটার স্থানান্তরে ‘অস্বাভাবিক’ হিড়িক, সিটি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ? সংসদের নতুন স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পাকিস্তানের বার্তা বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যে টেবিল চাপড়ে হাসলেন প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত: জাতিসংঘ ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ মৃত্যু: জামায়াতের শোক প্রকাশ মার্চের ১১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯২ কোটি ডলার প্রথম ভাষণেই দুই দেশের বিরুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হুঙ্কার

মালার পুঁতিতে উদঘাটন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি    ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৫ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

নিখোঁজ থাকার পাঁচ দিন পর টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু মারিয়া মিমের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া মালার ছেঁড়া পুঁতি ও ব্যবহৃত কনডমই এই নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করে।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া পুঁতিগুলো মারিয়ার গলার মালার অংশ, যা তার মা নিশ্চিত করেন। এ সূত্র ধরেই তদন্তে নতুন মোড় নেয়। পরে মারিয়া হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে সাজিদ (১৪) নামের এক কিশোরকে কৌশলে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং আরও দুই কিশোরের নাম প্রকাশ করে।

সাজিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে বাড়ইপাড়া গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মৃদুল (১৬) ও আব্দুর রহমানের ছেলে রায়হান কবীর (১৬) কে আটক করে।  

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করলে সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল সংশ্লিষ্ট আদালতের বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাগর তালুকদার, জান্নাতুন নাঈম মিতু, সুরাইয়া পৃথকভাবে তিনজনের জবান বন্দি রেকর্ড করেছেন। কোর্ট ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ঘটনার দিন মারিয়াকে মুখ চেপে নির্যাতনের একপর্যায়ে সে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। পরে মরদেহ গুম করার জন্য পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরের স্টিলের ট্রাঙ্কে লাশ লুকিয়ে রাখা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় মারিয়া। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে ১ ফেব্রুয়ারি ধনবাড়ী থানায় মামলা করেন তার বাবা উজ্জ্বল।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে যদুনাথপুর ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া গ্রামে মৃত শাহাদত হোসেনের পরিত্যক্ত ঘর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ওই ঘরের ভেতরে থাকা স্টিলের ট্রাঙ্ক থেকে মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মারিয়া বাড়ইপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র উজ্জ্বলের সন্তান। সে বাবা-মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ির একটি ছোট ঘরে বসবাস করত।

এ ঘটনায় শুরুতে সন্দেহভাজন হিসেবে সুমন (২৬) ও রাফিউল (২২) নামের দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তদন্তে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

ধনবাড়ী থানার ওসি নুরুস সালাম সিদ্দিক জানান, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অপরাধীদের আটক করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’

সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম বলেন, অপরাধীরা সবাই কিশোর। তাই সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিহত শিশুর মা জবেদা, নানা ময়নাল হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানসহ এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভিওডি বাংলা/ মোঃ লিটন সরকার/ আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
রাজশাহীতে জমে উঠেছে রেশমি পোশাকের বেচাকেনা
রাজশাহীতে জমে উঠেছে রেশমি পোশাকের বেচাকেনা
রাজশাহীতে চেয়ারম্যানকে পিটিয়ে ভিজিএফ কার্ডের তালিকা ছিনতাই
রাজশাহীতে চেয়ারম্যানকে পিটিয়ে ভিজিএফ কার্ডের তালিকা ছিনতাই
নাগেশ্বরীতে বাল্যবিবাহ বন্ধে সংলাপ-ইন্টারেক্টিভ সভা অনুষ্ঠিত
নাগেশ্বরীতে বাল্যবিবাহ বন্ধে সংলাপ-ইন্টারেক্টিভ সভা অনুষ্ঠিত