• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সরকারের প্রতিরক্ষা চুক্তি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ: নিরাপত্তা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:১২ পি.এম.
নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান

শেষ সময়ের ঘড়িতে প্রতিরক্ষা সামগ্রী কেনা ও চুক্তি বন্ধনে জোর দেওয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বিষয়টিকে বর্তমান প্রক্রিয়ার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে—এগুলো ‘চলমান প্রক্রিয়া’।

এই বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে নিরাপত্তা উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।

পরবর্তী সরকার এগুলো এগিয়ে না নিলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতির কী হবে—এ ধরনের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটি অনুমান নির্ভর প্রশ্ন।’

এছাড়া সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে তাকে যুক্ত করার বিষয়েও সমালোচনা ওঠে। কোনো দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা সাধারণত বিমান প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থাকেন না—এই বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুনিয়ার সব দেশে উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠান নাই।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, জুলাই হত্যার বিচার ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজন—এসব ছিল সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে অগ্রাধিকার থেকে সরে গিয়ে প্রতিরক্ষার খাতে বেশি জোর দেওয়ায় সমালোচনাও হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার সামরিক কেনাকাটায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ যুদ্ধবিমানের কেনার প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ইতালীয় কোম্পানি লিওনার্দো এসপিএ ইতালির সঙ্গে আগ্রহপত্র (ইয়াল্টার) স্বাক্ষর করে। ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান ইউরোফাইটার জিএমবিএইচের অধীনে তৈরি ও বাজারজাত হয়; এটি লিওনার্দো এসপিএ ইতালি, বিএই সিস্টেমস ও এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেসের কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে উৎপাদিত।

এছাড়া ড্রোন নির্মাণে চীনের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে চুক্তি হয়েছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক জোনে ড্রোন কারখানা স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দের কথাও সরকার জানিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সামরিক খাতে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

চীনের সঙ্গে জি২জি চুক্তির মাধ্যমে ড্রোন কারখানা নির্মাণ, পাকিস্তান থেকে জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়, চীন থেকে জে–১০ সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান ক্রয়, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন, তুরস্ক থেকে টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক মাল্টিরোল হেলিকপ্টার, ৬৫০ কোটি টাকায় যুদ্ধজাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি

এছাড়া আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের চেষ্টা চলছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির দাম বাড়ল ৫০ টাকা
ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির দাম বাড়ল ৫০ টাকা
পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
আজ ঘোষণা হবে ফেব্রুয়ারির এলপিজির দাম
আজ ঘোষণা হবে ফেব্রুয়ারির এলপিজির দাম