শফিকুর রহমান:
ফেনীতে বাঁধ নির্মাণ ভারতের সঙ্গে আলোচনা শেষে হবে

ফেনীতে এখনও নির্মাণ হয়নি এমন বাঁধটি ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “ফেনীতে যে বাঁধের কারণে মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, সেটি এখনও তৈরি হয়নি। আল্লাহ সুযোগ দিলে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এটি নির্মাণ করব। আমরা তাদেরকে শ্রদ্ধা করি, আশা করি তারা আমাদেরকেও সম্মান করবে। শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে আমরা সমাধান বের করব।”
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান ফেনীবাসীর ভোগান্তি স্মরণ করিয়ে বলেন, “সীমান্তের ওপার থেকে ধেয়ে আসা পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে পুরো ফেনী জেলা সমুদ্রের মতো প্লাবিত হয়েছিল। সেই সময় আমরা ছুটে এসেছিলাম। মানুষ কোমর পানি ভেঙে চলাচল করেছে, আমিও তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভাঙা বাঁধের জায়গায় যেতে পারিনি, পরে অনুকূল পরিবেশে গিয়ে দেখেছি। এটি আমাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।”
তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে বলেন, “আজকে মনে পড়ে আবরার ফাহাদকে। ফেনী নদী নিয়ে দুটি কথা বলেছিল, এজন্য তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ফেনীবাসী আবরারের রুহকে মনে রাখুক। সে দেশের ন্যায্য প্রাপ্যতার কথা বলেছিল, আধিপত্যবাদের অনুরাগীরা তা সহ্য করতে পারেননি।”
ফেনীর উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “১৮ কোটি মানুষের দেশে কোনো জেলা মেডিকেল কলেজ থেকে বঞ্চিত হবে না। ফেনীতেও সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপিত হবে। ফেনীর স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুতে রূপান্তরিত হবে।”
ফেনী-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন ও ফেনী-২ আসনে জোট প্রার্থী জহিরুল ইসলামকে যথাক্রমে দাঁড়িপাল্লা ও ঈগল প্রতীক তুলে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যাদেরকে উপহার দিয়েছি, তাদের পক্ষ থেকে নয়, এটি একীভূত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। ১১টি দল এক হয়ে কাজ করছে।”
নির্বাচন ও গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রথম ভোট হ্যাঁ দিলে তা স্বাধীনতার প্রতীক, না মানে গোলামী। দ্বিতীয় ভোট হবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে সাধারণ মানুষও নেতৃত্বে পৌঁছাতে পারে। রাজার ছেলে রাজা হবে—এই সংস্কৃতি আমরা বদলাতে চাই।”
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নারী অধিকার নিয়ে তিনি বলেন, “হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই সমান। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না—এটি মিথ্যা। মায়েদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। কওমি মাদ্রাসা আমাদের হৃদয়ে স্থান পেয়েছে, অপপ্রচারের ভিত্তি নেই।”
নির্বাচনী সহিংসতা বা উত্তেজনার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “শীতের দিনে মাথা গরম করলে চৈত্র মাসে কী করবেন? মাথা ঠান্ডা রাখুন, জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করুন, মা-বোনদের উপর সহিংসতা বন্ধ করুন। তাঁদের ক্ষোভ আপনাদের জন্য বিপদ ডেকে আনবে।”
ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশে জোট প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের সর্বশক্তি দিয়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফেরার আহ্বান জানান।
ভিওডি বাংলা/জা







