• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

১৯ বছর পর বগুড়ায় ফিরে আবেগাপ্লুত তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৬ এ.এম.
নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজ জন্মভূমি বগুড়ায় ফিরে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুনেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জনগণকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শুরুতেই আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে তারেক রহমান বলেন, প্রায় দুই দশক পর আল্লাহ আমাকে আবার নিজের মাটিতে ফিরে আসার তৌফিক দিয়েছেন। নিজের ঘরে ফিরে কী বলবো, তা নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর জন্মভূমির মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের আবেগ ধরে রাখা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

বগুড়াবাসীর সঙ্গে অতীতের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ১৯ বছর আগে যখন দেশে ছিলাম, তখন বগুড়ার মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলাম। শতভাগ সফল না হলেও সরকারের আইন-কানুনের ভেতরে থেকে যতটুকু সম্ভব ছিল, তা করার আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল। তিনি বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়েই তখন উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

বগুড়ার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বনানী-মাটিডালি সড়ক প্রশস্তকরণ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ স্থাপন, গ্যাস সংযোগসহ নানামুখী অবকাঠামোগত উন্নয়ন মানুষের চাহিদার ভিত্তিতেই বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। এসব উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বগুড়ার জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বগুড়াকে তিনি সবসময় একটি মডেল জেলা হিসেবে বিবেচনা করতেন। কারণ, দেশের বাকি ৬৩টি জেলাকে কীভাবে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনা যায়—তার বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়েছিল বগুড়ায়। মানুষের মৌলিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ধাপে ধাপে জেলার অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ওই সময়ে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনেই দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় বেশি উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। সে কারণেই বগুড়াকে নিজের কাছে একটি মডেল জেলা হিসেবে দেখেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সে সময় এমন অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে মানুষের অধিকাংশ প্রয়োজন স্থানীয়ভাবেই পূরণ হতো। চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা অন্যান্য সেবার জন্য খুব বেশি ঢাকামুখী হতে হতো না।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি নির্ধারণ করবে দেশে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না। তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে ১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জনগণের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণই পারে একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে।

এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অতীতে বগুড়ার সংসদ সদস্য ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে তিনি অনুপস্থিত থাকলেও একজন এলাকার সন্তান ও ভাই হিসেবে বগুড়াবাসীর পাশে থাকতে চান তিনি। তিনি বলেন, বগুড়ার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান।

গত ১৫ বছরের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, শুধু বগুড়াই নয়, প্রকৃত অর্থে পুরো বাংলাদেশই এই সময়ে বঞ্চিত ছিল। তিনি বলেন, আল্লাহ যদি ভবিষ্যতে বিএনপিকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে বগুড়ার পাশাপাশি সমগ্র দেশকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হবে।

সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে আলতাফুনেছা খেলার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে বগুড়াবাসীর মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আবেগঘন পরিবেশ।

সবশেষে তারেক রহমান সাতজন প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং নির্বাচনে বিজয়ের জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ভোটের প্রচারণায় ‘বনকাগজ’, লিফলেট থেকে জন্ম নেবে গাছ
ভোটের প্রচারণায় ‘বনকাগজ’, লিফলেট থেকে জন্ম নেবে গাছ
চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের আমিরের নির্বাচনি জনসভা আজ
চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের আমিরের নির্বাচনি জনসভা আজ
তারেক রহমান আজ টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জে যাচ্ছেন
তারেক রহমান আজ টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জে যাচ্ছেন