রবিউল আলম
মতবিনিময়ের মাধ্যমে এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান

ঢাকা–১০ আসনের বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি বলেছেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। জনগণের ভাবনাগুলো ধারণ করাই রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সমস্যাগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, এই মতবিনিময়ের লক্ষ্য হচ্ছে এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা, সমাধানের পথ খোঁজা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে এলাকাকে সম্প্রীতি ও স্বস্তির বসবাসযোগ্য এলাকায় পরিণত করা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকা-১০ আসনের ১৬ নং ওয়ার্ড পুকুর পাড়ে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, ঢাকা শহর জরাজীর্ণতা নিয়েই বেড়ে উঠেছে। এখানে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার কারণে সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়। তবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা গেলে, নির্বাচিত সরকার ও সিটি করপোরেশন কার্যকর হলে পর্যায়ক্রমে নাগরিক সেবাখাত প্রসারিত করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, এলাকাবাসীর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় সভা করছেন। এলাকায় একাধিক সভা হয়েছে। এসব সভার উদ্দেশ্য জনগণের আকাঙ্ক্ষা জানা এবং সেই অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া।
এলাকার অবকাঠামোগত সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তা প্রশস্ত করার দাবি যৌক্তিক। যেখানে বাস্তবসম্মতভাবে সুযোগ আছে, সেখানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর যেখানে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে বিবেচনার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে হবে।
রাজউকের নিয়ম না মেনে গড়ে ওঠা ভবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক ভবনেই নিয়ম মানা হয়নি। এখন সব ভবন সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ছাড়ার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। যেখানে বাউন্ডারি বা সেটব্যাক সরিয়ে জনস্বার্থে উপকার করা সম্ভব, সেখানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঢাকার জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভবন নির্মাণ ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সমস্যা প্রকট হয়েছে। বৃষ্টির পানি নির্ধারিত সময়ে নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আশ্বাস দেন, এলাকায় কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন, রাজনৈতিক চাপ বা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না।
শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, বিএনপি একটি সম্প্রীতির, গণতান্ত্রিক সমাজ চায়। শান্তি, স্বস্তি ও সম্প্রীতি ছাড়া কোনো উন্নয়ন কার্যকর হয় না। এলাকাবাসীকে একটি পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার সমস্যা তাঁর নিজের সমস্যা।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচন রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে। এটি শুধু একজন সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্র ব্যর্থতার দিকে যাবে কি না, তা নির্ধারণের নির্বাচন। তিনি ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ভোটে অনীহা বা বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ভোট দেওয়া মানেই রাষ্ট্রকে ভালোবাসার প্রমাণ দেওয়া। জনগণের ভোটই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় শক্তি। দুই–তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করে হলেও সবাইকে ভোট দিতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের রায়ের ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়ে সুযোগ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করবেন।
ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ







