চারবার পেছাল
হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৩ ফেব্রুয়ারি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়ে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় চারবার পেছানো হলো।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হলে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছিলেন ঢাকার আরেক অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।
হাদি হত্যা মামলায় গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে অভিযোগপত্রে সন্তোষ প্রকাশ করেনি ইনকিলাব মঞ্চ।
গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি নারাজি দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটির পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়ে সিআইডিকে তদন্তভার দেন।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় একটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যু হয়।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুর পর মামলায় ৩০২ ধারায় হত্যা যুক্ত করা হয়। প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবি পুলিশ মামলার তদন্তভার পায়।
তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলার তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে— রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই তাকে হত্যা করা হয়।
এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/ এসএম/ আরিফ







