• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সাংবাদিকদের কার্ড ও স্টিকার জটিলতা, ইসিকে সমাধানে আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৯ পি.এম.
এ এম এম নাসির উদ্দিননের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দেন-ছবি-ভিওডি বাংলা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের নির্বাচনী কার্ড ও গাড়ির স্টিকার প্রদানের নতুন অনলাইন পদ্ধতি কার্যকর হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাংবাদিকরা। এরই প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সংগঠনগুলো নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আগামী রোববারের (১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহ, কাভারেজ ও সম্প্রচারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিননের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিক নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন। 

নির্বাচনকালীন সময় সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের জন্য কমিশন যে কার্ড ও গাড়ির স্টিকার প্রদান করে, এবার তার জন্য নতুন একটি অনলাইন অ্যাপ চালু হয়েছে। তবে সাংবাদিক নেতারা বলছেন, নতুন এই পদ্ধতি ব্যবহারযোগ্য নয় এবং এতে সমস্যা বেড়ে যাবে।

রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি'র (আরএফইডি) সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, “সাংবাদিক নীতিমালা সংশোধনের দাবি দীর্ঘদিনের। একাধিকবার ইসির সঙ্গে আলোচনা করা হলেও এখনো নীতিমালা সংশোধন হয়নি। তবে হঠাৎ করে আমাদের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা ছাড়াই নতুন অনলাইন অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এটি ইউজার ফ্রেন্ডলি নয়। তাই বর্তমানে যেমন সমস্যা হচ্ছে, ভবিষ্যতেও আরও জটিলতা তৈরি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, আগামী রোববারের মধ্যে সমস্যা সমাধান না হলে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বৈঠক করে সংবাদ সংগ্রহ ও সম্প্রচার সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।”

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, “নতুন অনলাইন পদ্ধতিতে সকল সাংবাদিককে স্বল্প সময়ের মধ্যে কার্ড প্রদান করা বাস্তবসম্মত নয়। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, এই পদ্ধতিটি ব্যবহারযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আমরা আগের মতো সহজ পদ্ধতিতে কার্ড ও স্টিকার প্রদানের দাবি জানিয়েছি।”

তিনি জানান, “নির্বাচন কমিশন স্বীকার করেছে যে নতুন নীতিমালার কারণে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে আগামী রোববারের মধ্যে সমস্যা সমাধান করা হবে, সম্ভব হলে তার আগেই। সমাধান না হলে আমরা পুনরায় বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপ জানাব।”

সাংবাদিক নেতারা আরও বলছেন, নির্বাচন কমিশন নতুন প্রযুক্তি ও অনলাইন পদ্ধতি চালু করলেও সময়ের সীমাবদ্ধতা, সিস্টেমের জটিলতা এবং সকল সাংবাদিককে একসাথে নিবন্ধনের সমস্যার কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই কার্যকর সমাধান ছাড়া সাংবাদিকরা পূর্ণসংখ্যক সংবাদ কাভারেজ ও সম্প্রচার নিশ্চিত করতে পারবে না।

সাংবাদিকদের এই হুঁশিয়ারি নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও নির্বাচনী বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটকালীন সাংবাদিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হলে ভোটের স্বচ্ছতা ও সংবাদ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এর আগে, সাংবাদিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইসির সঙ্গে সাংবাদিক নীতিমালা সংশোধনের জন্য আলোচনা চালিয়ে আসছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নতুন অনলাইন অ্যাপ চালু হওয়ার পর সাংবাদিক নেতারা জানান, সিস্টেমের ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে তীব্র আপত্তি রয়েছে।

সাংবাদিক নেতাদের এই পদক্ষেপ নির্বাচনী পরিবেশে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও দায়িত্ব পালনের গুরুত্বকেও তুলে ধরছে। তারা বলছেন, সংবাদ সংগ্রহ ও সম্প্রচারে বাধা সৃষ্টি হলে জনগণ সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হবে।

এদিকে, নির্বাচন কমিশন কার্ড ও স্টিকার প্রদানের ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে সাংবাদিক নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সমাধান না হলে তারা কঠোর পদক্ষেপে যেতে পারেন।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি
বাংলাদেশ নির্বাচিত হলো জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহসভাপতি
বাংলাদেশ নির্বাচিত হলো জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহসভাপতি
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিমানসুবিধা
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিমানসুবিধা