• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ভোটের মাঠে নেই ছোট ৫ দলের ৬ শীর্ষ নেতা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি    ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৭ এ.এম.
অলি আহমদ বীরবিক্রম, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ-ছবি-ভিওডি বাংলা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতি যখন চরম উত্তেজনায়, ঠিক তখনই আলোচনায় এসেছে একটি ব্যতিক্রমী বিষয়-ছোট পাঁচ রাজনৈতিক দলের ছয়জন শীর্ষ নেতা এবারের নির্বাচনে ভোটের মাঠে নেই। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, দল গঠন, নেতৃত্ব দেওয়া এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এই নেতারা এবার সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই ছয় নেতা হলেন-লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন, দলটির মহাসচিব সউম আবদুস সামাদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জয়নুল আবেদিন জুবাইর এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মহাসচিব শাহ মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন।

চট্টগ্রামকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে উঠে আসা এসব নেতাদের অনেকেই একসময় জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দলীয় চেয়ারম্যান, মহাসচিব কিংবা সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের পরিচিতি ছিল সারাদেশে। তবে নানা রাজনৈতিক সমীকরণ, বয়সজনিত কারণ, দলীয় কৌশল কিংবা প্রশাসনিক জটিলতায় এবার তারা ভোটের মাঠে অনুপস্থিত।

২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করে ‘বৃহত্তর সুন্নি জোট’। সে সময় জোটের নীতিনির্ধারকরা অন্তত ৭০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। জোটের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট রাজনীতিতে যুক্ত থেকে একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চট্টগ্রাম-৪ (হাটহাজারী) আসন থেকে তিনি সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভক্তির জেরে তিনি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের চেষ্টা করেন এবং মনোনয়নপত্রও দাখিল করেছিলেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও নির্বাচন কমিশনের আপত্তির মুখে তাঁর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষিত হয়। এ বিষয়ে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা অনেকের অস্বস্তির কারণ হয়েছে। সেই জনপ্রিয়তাই এবার আমার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

অন্যদিকে, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম ২০০৮ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে এলডিপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। এর আগে ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়ে যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি। এবারের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে অলি আহমদ বলেন, “আমি স্বেচ্ছায় নির্বাচন করছি না। আমার পরিবর্তে জামায়াত জোট থেকে আমার ছেলে ওমর ফারুক নির্বাচন করছে।”

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসন থেকে নির্বাচন করে আসছিলেন। এবার তিনি নিজ দলের নেতা এস এম শাহজাহানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন। এম এ মতিন বলেন, “বয়সের কারণে এবার নির্বাচন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

একই দলের মহাসচিব সউম আবদুস সামাদও এবার নির্বাচনে নেই। আগের নির্বাচনগুলোতে তিনি চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার একাংশ) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এবার সেই আসনে জোটের প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা মোহাম্মদ সোলাইমান।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জয়নুল আবেদিন জুবাইর এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মহাসচিব শাহ মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন-দুজনেই ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেননি। ফলে ছোট দলগুলোর নির্বাচনি শক্তি ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞ নেতাদের অনুপস্থিতি ছোট দলগুলোর জন্য সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি নতুন নেতৃত্বের জন্য সুযোগও সৃষ্টি করছে। ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তগুলোর প্রভাব কতটা পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ভিওডি বাংলা/জা

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইসলামের ডিকশনারিতে সংখ্যালঘু বলে কোনো শব্দ নেই
জামায়াতের প্রার্থী ইসলামের ডিকশনারিতে সংখ্যালঘু বলে কোনো শব্দ নেই
বালিগাঁও ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে গণমিছিল অনুষ্ঠিত
বালিগাঁও ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে গণমিছিল অনুষ্ঠিত
ধানের শীষে ভোট ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের
ধানের শীষে ভোট ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের