ডিএমপির ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৭

রাজধানী ঢাকায় নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর ফেজ-২ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযানটি লালবাগ, সূত্রাপুর, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, পল্লবী, খিলগাঁও, হাজারীবাগ, যাত্রাবাড়ী, গেন্ডারিয়া, শেরেবাংলা নগর, উত্তরখান, শাহবাগ ও ওয়ারী থানায় পরিচালনা করা হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) অভিযান সম্পর্কে লালবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, লালবাগ থানার পুলিশ দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেফতারকৃতের নাম মো. মনির হোসেন (৪১)।
সূত্রাপুর থানার পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের নাম হলো এস.এম জহিরুল ইসলাম (৫০) ও মো. কামরুল ইসলাম (৫৬)। মিরপুর থানার পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার নাম মো. সাইফুর রহমান ওরফে সাগর (৩২)।
মোহাম্মদপুর থানা অভিযানকে কেন্দ্র করে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রাকিব (২১), রুদ্র (২২), সাগর (২০), সাখাওয়াত (২৭), শুকুর (৪৫), বাচ্চু (৩৫), জোবায়ের লিডার জুবায়ের (২৩), মুস্তাক রনি (৪০), শামীম (৩৫), রানা ওরফে বুলু (২২), আমজাদ (২২), তৌসিফ (২২), শাহীন ওরফে রাজিব (৩০), মনির (২৬), ফয়সাল (৩৫), আলমাস (২০), জুয়েল (৩২) ও তাসলিমা (২১) অন্তর্ভুক্ত।
তেজগাঁও থানা পুলিশ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে, নাম ফাতেমা ওরফে ফতে (২৮)। পল্লবী থানা থেকে গ্রেফতারকৃতরা হলো মো. লিমন (২৫) ও হেমা আক্তার (২০)। খিলগাঁও থানার অভিযানে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার নাম মোঃ আজিজুল (৩০)।
হাজারীবাগ থানা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. মিন্টু (৪৫), মো. ওয়াসিম (৫০) ও মো. ইমরান হোসেন (৩২)। যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে, নামগুলো হলো মো. ইমন (১৯), জয় চন্দ্র সরকার (১৪), মো. ফরিদুল ইসলাম জয় (২৬) ও মো. শুক্কুর আলী ওরফে ইমন (২৫)।
গেন্ডারিয়া থানার অভিযান শেষে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো মো. রাব্বি উল্লাহ (২৬), ওমর ফারুক, মো. জাহিদুল জাহিদ (৩৮), ফাতেমা আক্তার ওরফে প্রেমা (২২), মো. জনি (৩৫) ও মো. সজিব (২৫)। শেরেবাংলা নগর থানার অভিযান একজনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে শেষ হয়েছে, যার নাম নূর শাহীন (৬৫)।
উত্তরখান থানার পুলিশও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে, নাম মো. ইকরামুল ইসলাম শিপলু (৪০)। শাহবাগ থানা থেকে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ইমরান শেখ (২৪), রাজীব দেবনাথ (৩২), আলামিন (১৯), মো. মহিদুল ইসলাম (২৮), মো. রোমান মিয়া (২৭), মো. জিহাদ ইসলাম (১৯), মো. শাহাবুদ্দিন (৫২), মো. সেন্টু (৪৪), নুর ইসলাম (৪৫), মো. হোসেন (২৩), মো. সবুজ (২৫), রিফাত হোসেন (১৯), জামাল উদ্দিন (৩৫), মো. তারেক (২৪) ও মো. আক্তার হোসেন (৩০) অন্তর্ভুক্ত।
ওয়ারী থানার পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে, নাম মাহমুদ হাসান ওরফে মাহিন (২৮)। সমস্ত গ্রেপ্তারকৃতদের পরে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ডিএমপির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ হলো এক প্রক্রিয়াজাত অভিযানের অংশ, যার লক্ষ্য অপরাধপ্রবণ এলাকা থেকে মাদক, চোরাই চক্র ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা। এই অভিযান রাজধানীর বিভিন্ন থানায় সমান্তরালভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
মহানগরীতে এই অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়ত অপরাধপ্রবণ এলাকা ও শীর্ষ অপরাধী চক্রগুলোতে প্রভাব বিস্তার কমে এসেছে। ডিএমপি জানিয়েছে, অভিযান চলমান থাকবে এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ডিএমপি সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আদালতের নির্দেশে তাদের রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে। এই অভিযান শুধু অপরাধ দমনে নয়, বরং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মুখ্যভাবে লালবাগ, মোহাম্মদপুর ও শাহবাগ থানায় গ্রেপ্তার সংখ্যা বেশি হওয়ায় দেখা গেছে, এই এলাকাগুলো রাজধানীর সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি। এছাড়াও পল্লবী, গেন্ডারিয়া, হাজারীবাগ ও যাত্রাবাড়ীর মতো এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিএমপির এই অভিযান নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই বলেছেন, এই ধরনের অভিযান অপরাধীদের ভয় দেখানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়।
অপরাধ দমনে এবং শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ‘ডেভিল হান্ট’ কার্যক্রম নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে রাজধানীর অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
ভিওডি বাংলা/জা







