• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

নেত্রকোণা–৩

ভোটের অঙ্কে ধানের শীষ বনাম ঘোড়া, জামায়াতের নীরব প্রভাব

কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি    ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১৭ পি.এম.
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোণা–৩ (আটপাড়া–কেন্দুয়া) আসনের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ভোটের মাঠে উত্তাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এখানে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়েছে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী ও ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলালের মধ্যে।

তবে এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখছে দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের জামায়াত প্রার্থী খায়রুল কবির নিয়োগীর নীরব কিন্তু সংগঠিত ভোটব্যাংক।

নেত্রকোণা–৩ আসনে দুই উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়নে মোট ১৪৯টি ভোটকেন্দ্র ও ৭৭৭টি ভোটকক্ষ রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১১। হাওর ও কৃষিনির্ভর জনপদ হওয়ায় এখানে ভোটারদের মূল ফোকাস প্রতিশ্রুতি নয়, বরং কাজ ও উন্নয়ন।

দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল স্থানীয় সরকার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। কান্দিউড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, কেন্দুয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি কেন্দুয়া উপজেলায় বিশাল ও ব্যক্তিনির্ভর ভোটব্যাংক গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততা তাকে ভোটের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা দিচ্ছে।

অন্যদিকে আটপাড়া উপজেলায় ভোটের ছবি কিছুটা জটিল। এখানে ধানের শীষের দলীয় ভোটব্যাংক ও ঘোড়া প্রতীকের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা সমানভাবে প্রভাব ফেলে। ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা আটপাড়াকে ফল নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে তুলে ধরেছে।

রফিকুল ইসলাম হিলালী ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে জড়িত। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার অবস্থান শক্ত। দলীয় কাঠামো ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে ভোটের বড় শক্তি দিয়েছে।

জামায়াত প্রার্থী খায়রুল কবির নিয়োগীর প্রভাব তুলনামূলকভাবে নীরব হলেও সংগঠিত সমর্থনের কারণে তিনি নির্দিষ্ট ভোট ধরে রাখতে সক্ষম। অনেক ভোটার মনে করেন, এই ‘কাটিং ভোট’ ধানের শীষ ও ঘোড়া প্রতীকের ব্যবধান কমানো বা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় ভোটারদের মত, কেন্দুয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান খুব বেশি নয়। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে। নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগও উঠেছে। 

সব মিলিয়ে নেত্রকোণা–৩ আসনের নির্বাচন দাঁড়িয়ে আছে ত্রিমাত্রিক সমীকরণে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্থানীয় প্রভাব, বিএনপি প্রার্থীর দলীয় শক্তি ও জামায়াত প্রার্থীর নীরব ভোটব্যাংক। চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে ভোটের মাঠে।

ভিওডি বাংলা/ মো: হুমায়ুন কবির/ আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা
ইসি সানাউল্লাহ নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা
সরকারের কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা
বালুমহালের ইজারার নামে নয়-ছয় সরকারের কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা
আ’লীগ পুনর্বাসন করলে বিএনপি বিপদে পড়বে
আসিফ মাহমুদ আ’লীগ পুনর্বাসন করলে বিএনপি বিপদে পড়বে