• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের সুরক্ষা ও দায় মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫১ পি.এম.
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ছবি: ভিওডি বাংলা গ্রাফিক্স

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে সরকার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট রোববার (২৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত হয়। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অধ্যাদেশে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকার কর্তৃক প্রত্যয়ন সাপেক্ষে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে চলমান কোনো মামলা বা আইনি কার্যধারা থাকলে পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাহার করবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অব্যাহতি বা খালাস প্রদান করবে। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত নতুন মামলা দায়েরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ ও ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’-এর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে, সে বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দাখিল করতে হবে। কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলবে না। তবে কমিশন চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে।

অন্যদিকে, তদন্তে যদি দেখা যায় হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ নয় বরং ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অপরাধমূলক অপব্যবহার হিসেবে সংঘটিত হয়েছে, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। এতে বলা হয়েছে, সংসদ ভেঙে থাকা অবস্থায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশু ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা থেকেই এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং এটি অন্য সব আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে।

ভিওডি বাংলা/ এনআর/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ নির্বাচিত হলো জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহসভাপতি
বাংলাদেশ নির্বাচিত হলো জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহসভাপতি
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিমানসুবিধা
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিমানসুবিধা
জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো “মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ”
মাহফুজ আলম: জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো “মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ”