ইশরাক
ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণ, তবে বেফাস মন্তব্যে বাড়ছে অস্বস্তি

ঢাকায় বর্তমানে নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও সুষ্ঠু রয়েছে । বিভিন্ন আসনসহ সার্বিকভাবে ভোটের মাঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও, কিছু দলের কয়েকজন প্রার্থীর বেফাস ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ভোটারদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সূত্রাপুরে ৪২ নং ওয়ার্ডে পঞ্চম দিনের নির্বাচনী প্রচারণা সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের আর এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, আমার প্রতিপক্ষ এক প্রার্থী আমাকে নিয়ে মন্তব্য করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত। তার চিকিৎসার প্রয়োজন। কিভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে রাজনীতি করতে হয় এবং কিভাবে ভাষাগত দিক থেকে প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে কথা বলতে হয় তা শেখানোর আগে তার মানসিক চিকিৎসা দরকার।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সকল শক্তির মূল চাবিকাঠি জনগণের কাছে থাকা উচিত। জনগণ যাকেই ভোট দিবে, সুষ্ঠু, সঠিক, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যাকে বিজয়ী করবে, আমরা মাথা পেতে মেনে নেব ইনশাআল্লাহ। কারণ আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, ঢাকার নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও সুষ্ঠু রয়েছে। অন্যান্য আসনেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় আছে। তবে কিছু প্রার্থীর কুরুচিপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক মন্তব্যের কারণে বিষয়টি অনেকের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে ভোটারদের মধ্যে। অনেক ভোটার আমাদের কাছে বলেছেন, এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলে—এবং অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বা সম্মানিত কোনো নেতার প্রতি এমন মন্তব্য করা হলে তা অবশ্যই তাঁদের ভক্ত ও অনুসারীদের জন্য অস্বস্তির কারণ এবং ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে।
স্বৈরাচার ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ প্রসঙ্গে
ইশরাক হোসেন বলেন, যদি পতিত স্বৈরাচার আবার ফেরত আসে, দেশ অন্ধকারের দিকে চলে যাবে। আমরা লড়াই সংগ্রাম করেছি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য, যেখানে সবাই সহাবস্থান করবে, দেশ সকলের জন্য সমান হবে এবং ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে।
নির্বাচন প্রচারণার সময় আপনার ওপর কোন হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাঁচা-মরা মহান আল্লাহর হাতে। আমরা এই মৃত্যুকে মেনে নিয়েই আন্দোলনে ঝাঁপিয়েছিলাম। তখন আজকের অনেক প্রতিপক্ষ দল ছিল না। আমার অনেক সহযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না, গুলিকে ভয় পাই না।
তিনি বলেন, ভারতে বসে পতিত স্বৈরাচারীদের ষড়যন্ত্র চলছে, বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে। আমাদের প্রার্থীদের টার্গেট করে হত্যার পরিকল্পনা হয়েছে। ওসমান হাদীকে মারা হয়েছে। চট্টগ্রামের প্রার্থী এরশাদুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবুও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাচন যাদের সুষ্ঠু হয় তার জন্য আমরা কাজ করে যাব।
তিনি বলেন, দল মনে করেছে আমি যোগ্য প্রার্থী এবং আমি এটি ডিজার্ভ করি কোন পৈতৃক সূত্রে নয়। বাবার পুরনো আসনে মনোনয়ন পেয়ে আমি গর্বিত। বিএনপির মতো দলে অনেক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও আমি এখানে দাঁড়াতে পেরেছি, এটা আমার জন্য বড় গর্বের বিষয়।
ঢাকা ছয় ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে
তিনি বলেন, ঢাকা ছয় যদি চাঁদাবাজের আখড়া হয়ে থাকে, তার দায় বর্তমান সরকারের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সরকারের দায়িত্ব।
এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, যারা ধর্মের নামে চাঁদাবাজি করছে, লুটপাট করছে, ব্যাংক, হাসপাতাল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখল করেছে ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ কঠিন জবাব দিবে ইনশাআল্লাহ।
ইশরাক বলেন, এখানকার রাস্তাঘাট অত্যন্ত সরু এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভেঙে চুরে একাকার হয়ে গেছে। নাগরিক সেবার মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ, সুয়ারেজ এবং গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এসব সমস্যার কারণে এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
আমরা এই সমস্যাগুলোর সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি এবং ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করবো।রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবে আমরা ধারাটা শুরু করতে চাইবাধীরে ধীরে সব সমস্যার সমাধান করতে চাই।
ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ







